সশরীরে কিমের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা: কাঁপছে কোরীয় উপদ্বীপ

কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিল উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক দূরপাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। স্বয়ং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং–উনের উপস্থিতিতে পরিচালিত এই পরীক্ষা কেবল একটি সামরিক মহড়া নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পিয়ংইয়ংয়ের একটি শক্ত বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-র তথ্যমতে, পিয়ংইয়ংয়ের পশ্চিমে সমুদ্রের ওপর দিয়ে নির্ধারিত কক্ষপথে উড়ে গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। কিম জং–উন এই পরীক্ষায় সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দেশের পারমাণবিক যুদ্ধ সক্ষমতা ‘সীমাহীন ও নিরবচ্ছিন্ন’ভাবে বাড়িয়ে যাওয়া হবে। তার এই ঘোষণা ইঙ্গিত দেয় যে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই উত্তর কোরিয়া তাদের অস্ত্রাগারকে আরও আধুনিক ও বিধ্বংসী করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের চোখে এই পরীক্ষার গুরুত্ব- এটি একটি কৌশলগত বার্তা। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিচু দিয়ে উড়তে সক্ষম হওয়ায় এগুলো রাডারে ধরা পড়া কঠিন। কিমের সশরীরে উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, উত্তর কোরিয়া তাদের আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা কৌশলে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয়। দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের জন্য এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি হুমকি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক মহড়ার পাল্টা জবাব হিসেবেই কিম এই শক্তি প্রদর্শনকে বেছে নিয়েছেন। ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গাজা সংকট নিয়ে যখন বিশ্বশক্তির মনোযোগ বিভক্ত, ঠিক সেই সময়ে উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতার জানান দিয়ে দরকষাকষির টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে।
কিম জং–উনের ‘সীমাহীন উন্নয়নের’ ঘোষণাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মানে হলো, উত্তর কোরিয়া এখন কেবল ভূমি থেকে নয়, বরং সাবমেরিন এবং মোবাইল লঞ্চার থেকেও দ্রুততম সময়ে পারমাণবিক হামলার সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। এই ধারাবাহিক পরীক্ষাগুলোর মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিমা দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকেজো করে দেওয়া।
উত্তর কোরিয়ার এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। ওয়াশিংটন এবং সিউল এই পরীক্ষার তীব্র নিন্দা জানালেও পিয়ংইয়ংয়ের আক্রমণাত্মক মনোভাব কমার কোনো লক্ষণ নেই। কিম জং–উনের এই ‘তদারকি’ মূলত বিশ্বকে এটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, উত্তর কোরিয়া এখন আর কেবল পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নেই, বরং তারা একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।

 

-এম. এইচ. মামুন