ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের পাচঁরুখি বাজারে আদম ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যপক সংঘর্ষে আহত হয়েছে ২৫ জন। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে এলাকাবাসী
নান্দাইল উপজেলা হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। শনিবার ( ২৭ডিসেম্বর) প্রথমে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করলে উত্তেজিত জনতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। স্থানীয়রা জানান, পাঁচরুখি গ্রামের বাচ্চু মিয়া আদম ব্যবসায়ি (৫০) সাথে ভোক্তভোগী প্রবাসীর পরিবারের পক্ষে একই ইউনিয়নের সোহেল ভেন্ডার নামে স্থানীয় মাতাব্বরের গন্ডগোল সৃষ্টি হয়। রোববার সকালে দু’পক্ষই মাইকযোগে একে অপরকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়। সাথে সাথে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। দু’পক্ষই লাঠিসোঁটা সহ
দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারমুখী অবস্থান নিতে থাকে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে দ্রুত হাজির হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম জানান, জনতার মারমুখী অবস্থান দেখে সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করলে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। এতে জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে, সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় আত্মরক্ষার জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যরা একটি ঘরে আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিরাপদে গাড়িতে উঠেন।
বাচ্চু মিয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার কাছে সোহেল ভেন্ডার ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তার দলবল নিয়ে আমার বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়।”
অন্যদিকে সোহেল ভেন্ডার বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবার আমার কাছে বিচার প্রার্থী হয়। তারপর উক্ত ঘটনার ব্যপারে বাচ্চুকে জিজ্ঞাস করতে গেলে, সে আমাকে মারধর করে প্রায় দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়া যায়। ছিনতাইয়ের ঘটনা শুনে আমার লোকজন উত্তেজিত হয়ে তার (বাচ্চু) বাড়িতে হামলা চালায়।”
নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আল আমীন জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই সময় সেনাবাহিনী কিছুটা লাঠিচার্জ করে। লাঠিচার্জে অনেক লোকজন আহত হন । একজন অতিবৃদ্ধ মারাত্মকভাবে আহত হয়।”
বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সাইদুর রহমান
নান্দাইল, ময়মনসিংহ










