বর্তমান সময়ে প্রায় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। খরচের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পেরে ওঠা যাচ্ছে না। নতুন বছরে কী করবেন?
নতুন বছরে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য ঠিক রাখতে এখনই খরচ পরিকল্পনা জরুরি। সামান্য সচেতনতাই বছরের শেষে সঞ্চয় ও স্বস্তি বাড়াতে পারে।
নতুন বছরের খরচ নিয়ন্ত্রণের ১০টি কৌশল নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
১. বছরের শুরুতেই বাজেট করুন
নতুন বছরের শুরুতে মাসওয়ারি বাজেট ঠিক করে ফেলা উচিত। যেমন মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা। বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, শিক্ষা, চিকিৎসা— প্রতিটি খাতে কত খরচ হবে, তা আগেই লিখে ফেলুন। লিখিত বাজেট থাকলে হঠাৎ খরচে লাগাম টানা সহজ হয়।
২. জরুরি খরচের জন্য আলাদা তহবিল
আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে খরচের সীমা ঠিক করতে হবে। যদি আয় ৫০ হাজার হয়, তবে খরচের লক্ষ্য রাখুন সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ হাজার। বাকি অংশ সঞ্চয়ের জন্য রেখে দিন। এতে মাস শেষে ধার করার প্রয়োজন কমে।
৩. বেশি সুদের ঋণ আগে শোধ
আপনার প্রয়োজন আর শখের বিষয়টি আলাদা করে রাখুন। এতে খরচ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। যেমন : চাল-ডাল, বাসাভাড়া বা সন্তানের পড়াশোনা প্রয়োজনীয় খরচ হিসেবে বিবেচনায় রাখুন। আর নতুন ফোন বা ব্র্যান্ডের পোশাক কেনা হলো শখের খরচ। বাজেটে প্রথমে প্রয়োজনীয় খাত পূরণ করুন, পরে শখের খরচের কথা ভাবুন।
৪. দিনের খরচ লিখে রাখুন
একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। মাসের শুরুতেই পাঁচ হাজার টাকা সঞ্চয়ে রাখবেন। বেতন পাওয়ার দিনই আলাদা হিসাবে রাখলে খরচ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। একসময় দেখবেন, বেশ কিছু টাকা সঞ্চয় হয়ে গেছে। টাকা থাকলে সাহস বাড়ে।
৫. আয় অনুসারে খরচের সীমা
জরুরি খরচের জন্য আলাদা তহবিল গঠন করতে পারেন। হঠাৎ অসুস্থতা বা জরুরি ভ্রমণের জন্য দু-তিন মাসের খরচের সমান টাকা জমলে ঋণের চাপ এড়ানো যায়।
৬. প্রয়োজন আর শখ আলাদা করুন
বেশি সুদের ঋণ আগে শোধ করলে চাপ কমে যায়। যেমন : একসঙ্গে মুঠোফোন ও ফ্রিজ কেনার ঋণের কিস্তি চলছে। কোনটিতে সুদ বেশি, সেটি আগে শোধের পরিকল্পনা করলে মোট খরচ কমে।
৭. সঞ্চয় সবার আগে
চা-নাশতা বা রিকশাভাড়া— দিন শেষে লিখে রাখুন। মাস শেষে দেখবেন, ছোট খরচ মিলেই বড় অঙ্ক হয়ে গেছে। দিনের খরচ লিখে রাখলে কোথায় খরচ কমানো যায়, তা নির্বাচন করা সহজ হবে।
৮. বিল ও সাবস্ক্রিপশন পর্যালোচনা
যেসব সেবা নেওয়া হয় না, কিন্তু মাসের পর মাস বিল দিয়ে যাচ্ছেন। অতি প্রয়োজন না হলে তা বাদ দিতে পারেন। যেমন এখন ওয়াই–ফাই ইন্টারনেটে শহর, বাড়িতে স্মার্ট টিভি চালান। তাই স্যাটেলাইট বা ডিশের লাইন সংযোগ বাদ দিতে পারেন। আবার ল্যান্ডফোন এখন খুব বেশি ব্যবহার হয় না। তাই মুঠোফোনের এ যুগে ল্যান্ডফোন সংযোগ না রাখলেও চলে।
৯. কেনাকাটায় পরিকল্পনা করুন
তালিকা ছাড়া বাজারে গেলে অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা হয়। একই পণ্যের দাম দোকানভেদে তুলনা করলে খরচ কমে।
১০. মাস শেষে বাজেট মিলিয়ে দেখুন
যদি দেখেন খাবার খাতে বরাদ্দ ছাড়িয়েছে, পরের মাসে আয় বাড়াতে হবে। নিয়মিত পর্যালোচনাই বাজেট কার্যকর রাখে।
মামুন/










