নাসিরনগরে হাড়কাঁপানো শীত, খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। হিমেল বাতাস আর কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় নাসিরনগরে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিন বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হিমেল বাতাস ও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র শীতে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা, আগামী কয়েক দিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা কুয়াশা দেখা গেছে। দুপুর ১২টার পর সূর্যের দেখা মিললেও হালকা বাতাসে শীতের অনুভূতি আরও বেড়ে যায়। শীতের তীব্রতায় গ্রাম ও শহরের হাটবাজারে লোকসমাগম কমে গেছে, পাশাপাশি কমেছে যানবাহন চলাচলও।

নাসিরনগর সদর উপজেলার কলেজ মোড় এলাকার অটোরিকশা চালক বাছির মিয়া বলেন, “আজ শীত খুব বেশি। হাত-পা জমে আসছে। যাত্রী কম, আয়ও কমে গেছে।”

বাজারের ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা মজিবুর রহমান বলেন, “সকালে কুয়াশা আর ঠান্ডার কারণে গ্রাম থেকে পণ্য আনতে দেরি হয়েছে, ফলে বেচাকেনা কম হচ্ছে।”

এদিকে শীত বাড়ায় উপজেলার বিভিন্ন শীতবস্ত্রের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ডিসেম্বর ও জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে। কয়েক দিনের মধ্যেই ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।

জায়েদ হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া/