গাজীপুরের কালীগঞ্জে ট্রেন দুর্ঘটনায় নানি-নাতনিসহ তিনজনের মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের কান্না যেন থামছেই না, তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও।
নিহতরা হলেন কালীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ালটেক গ্রামের ইসহাক মিয়া বাবুর মেয়ে সানজিদা আক্তার অনাদি, তার নানি কমলা বেগম এবং প্রতিবেশী সাদিয়া বেগম। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেওয়ালটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে অনাদির মা তাসলিমা আক্তার জানান, তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে অনাদি ছিল সবার বড়। স্থানীয় বেগম রোকেয়া কিন্ডারগার্টেন থেকে সে এবার পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য এক মাস আগে তাঁর মা কমলা বেগম নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মরজাল এলাকা থেকে মেয়ের বাড়িতে আসেন। বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর কমলা বেগম নাতনি অনাদি ও পাশের বাড়ির সাদিয়া বেগমকে নিয়ে হাঁটতে বের হন। প্রতিদিনের মতো পাকা ব্রিজ পর্যন্ত হাঁটার কথা থাকলেও সেদিন তারা রেললাইনের দিকে চলে যান। ফেরার পথে তারা ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হন।
মাগরিবের আজান হলেও তারা বাড়ি না ফেরায় তাসলিমা আক্তার খোঁজ নিতে বের হন। পরে জানতে পারেন, পাশের রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে গিয়ে তিনি মাকে মৃত এবং মেয়েকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। পাশে সাদিয়া বেগমের ছিন্নভিন্ন মরদেহ পড়ে ছিল। অনাদিকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাদিয়ার শাশুড়ি পারুল বেগম বলেন, তাঁর ছেলে মোবারক হোসেন এক বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। দুর্ঘটনার খবরে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।
কালীগঞ্জ থানা সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার পর ওই তিনজন অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। রেলওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশের প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিথী রানী মণ্ডল/










