বিপিএল শুরুর ঠিক আগের দিন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানার আকস্মিক পালাবদল, বিসিবির অধীনে দলের দায়িত্বভার গ্রহণ আর কোচিং স্টাফে রদবদল—সব মিলিয়ে মাঠের বাইরের নাটকীয়তায় টালমাটাল ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। তবে সব বিতর্ক আর অনিশ্চয়তাকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে মাঠের লড়াইয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে শেখ মেহেদীর দল। আসরের উদ্বোধনী দিনেই নবাগত নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৬৫ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করেছে তারা।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দলের ভেতরের অস্থিরতা এবং জয় নিয়ে মুখ খুলেছেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে চলা সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, এমন পরিস্থিতিতে মনোযোগ ধরে রাখা ক্রিকেটারদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল।
মেহেদী বলেন, “আপনারাও দেখেছেন প্লেয়ার হিসেবে এটা একটু কঠিন ছিল। তবে দিনশেষে এটি ক্রিকেট খেলা, তাই আমরা দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। এটাই জরুরি ছিল। স্বস্তির বিষয় হলো, খেলা শুরুর আগেই সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। খেলার মাঝপথে এমন কিছু হলে আরও বিপদে পড়তাম। যেহেতু আগেই সব ঠিক হয়েছে, তাই সবাই এখন মানসিকভাবে মুক্ত এবং চাপহীন।”
অধিনায়ক হিসেবে বড় মঞ্চে এটিই ছিল মেহেদীর প্রথম পরীক্ষা। জয় দিয়ে শুরু করতে পেরে উচ্ছ্বসিত এই অলরাউন্ডার বলেন, “জয় মানেই জয়। অধিনায়কত্বে আমি একদমই নতুন, আগে বড় কোনো পর্যায়ে নেতৃত্ব দিইনি। তাই কিছুটা রোমাঞ্চিত ছিলাম। সব মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ।”
টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সাহসী সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোচিং স্টাফের কৌশলের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “রাতের খেলায় সাধারণত শিশির থাকে, তাই টস জিতে ব্যাটিং নেওয়াটা কোচের দারুণ সিদ্ধান্ত ছিল। আমাদের ব্যাটিং গভীরতা খুব বেশি না হলেও বোলিং আক্রমণ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী সেটি কাজে লাগাতে পেরেছি।” উল্লেখ্য, বিসিবি শেষ মুহূর্তে চট্টগ্রামের মালিকানা ছেড়ে দেওয়ায় বিপিএলের ইতিহাসে বিরল এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে মাঠের খেলায় চট্টগ্রাম প্রমাণ করল, মাঠের বাইরের অস্থিরতা তাদের পারফরম্যান্সে মরচে ধরাতে পারেনি।
-এম. এইচ. মামুন










