দরিদ্র ও আগন্তুকদের সাহায্য করতে অস্বীকার করা মানে ঈশ্বরকেই প্রত্যাখ্যান করা: পোপ লিও

বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টানরা যিশুর জন্মদিন উদযাপন করার দিনে পোপ লিও বলেনগোয়ালঘরে যিশুর জন্মের কাহিনি প্রমাণ করে যে ঈশ্বর মানুষের মাঝেই তার ‘নাজুক তাঁবু’ খাটিয়েছেন। এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে আমরা কীভাবে গাজার তাঁবুগুলোর কথা ভাবি নাযেগুলো সপ্তাহের পর সপ্তাহ বৃষ্টিঝড় ও শীতের মুখে উন্মুক্ত?’

তবে বড়দিনের পরবর্তী আশীর্বাদবার্তায় অভিবাসন ইস্যুতে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেন পোপ। তিনি আমেরিকা মহাদেশ পাড়ি দেওয়া অভিবাসী ও শরণার্থীদের পরিস্থিতি নিয়েও দুঃখ প্রকাশ করেন। অভিবাসীদের সুরক্ষাকে অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন তিনি।

অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির সমালোচনা করলেও এবারের ভাষণে পোপ লিও সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি। তবে বুধবার বড়দিনের আগের রাতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন,

সম্প্রতি পোপ লিও একাধিকবার গাজার ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত মাসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেনইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের একমাত্র সমাধান হতে পারে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলি জনপদে হামাস নেতৃত্বাধীন হামলার পর শুরু হওয়া টানা দুই বছরের ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ ও সামরিক অভিযানের পর গত অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাস একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবু মানবিক সংস্থাগুলোর মতেগাজায় এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠীই গৃহহীন অবস্থায় রয়েছে।

সেন্ট পিটার্স বাসিলিকায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৃহস্পতিবারের প্রার্থনাসভায় পোপ বিশ্বজুড়ে গৃহহীন মানুষের দুর্দশা এবং যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেননিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর শরীর খুবই নাজুকযারা চলমান বা শেষ হওয়া অসংখ্য যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষতযেখানে পড়ে থাকে ধ্বংসস্তূপ আর খোলা ক্ষত।

তিনি আরও বলেননাজুক তরুণদের মন ও জীবনযাদের অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য করা হয়। সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে তারা উপলব্ধি করে তাদের কাছে যা চাওয়া হচ্ছে তার অর্থহীনতা এবং সেই সব জাঁকজমকপূর্ণ ভাষণের মিথ্যাচারযার আড়ালে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়।

বড়দিন উপলক্ষে ‘উরবি এৎ অরবি’অর্থাৎ নগর ও বিশ্বের উদ্দেশে দেওয়া বার্তা ও আশীর্বাদে পোপ লিও সব বৈশ্বিক সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানান। সেন্ট পিটার্স বাসিলিকার কেন্দ্রীয় বারান্দা থেকে তিনি ইউক্রেনসুদানমালিমিয়ানমারথাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিকসামাজিক ও সামরিক সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন।

ইউক্রেনে চলমান সহিংসতা নিয়ে তিনি বলেনরুশ বাহিনী দেশটির পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকে হুমকির মুখে ফেলায় সেখানকার মানুষ ‘সহিংসতায় জর্জরিত’। পোপ বলেনঅস্ত্রের শব্দ থেমে যাক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ও অঙ্গীকারে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যেন আন্তরিকসরাসরি ও সম্মানজনক সংলাপে বসার সাহস পায়।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে টানা তৃতীয় সপ্তাহের সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে পোপ দুই দেশের ‘প্রাচীন বন্ধুত্ব’ পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। তিনি বলেনএই বন্ধুত্বই পুনর্মিলন ও শান্তির পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে।

বড়দিনের প্রথম ভাষণে গাজার ফিলিস্তিনিদের মানবিক অবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন পোপ লিও। বৃহস্পতিবার দেওয়া এই ভাষণে তিনি গাজায় বসবাসরত মানুষের দুর্দশার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। যা ছিল বড়দিনের সাধারণত গাম্ভীর্যপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক সেবানুষ্ঠানের তুলনায় ব্যতিক্রমধর্মী ও সরাসরি আবেদনমূলক। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টানরা যিশুর জন্মদিন উদযাপন করার দিনে পোপ লিও বলেনগোয়ালঘরে যিশুর জন্মের কাহিনি প্রমাণ করে যে ঈশ্বর মানুষের মাঝেই তার ‘নাজুক তাঁবু’ খাটিয়েছেন। এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে আমরা কীভাবে গাজার তাঁবুগুলোর কথা ভাবি নাযেগুলো সপ্তাহের পর সপ্তাহ বৃষ্টিঝড় ও শীতের মুখে উন্মুক্ত?’

চলতি বছরের মে মাসে প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ছিল পোপ লিওর প্রথম বড়দিন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা প্রথম পোপ হিসেবে তিনি তার পূর্বসূরির তুলনায় সাধারণত বেশি সংযত ও কূটনৈতিক ভঙ্গিতে কথা বলেন এবং ধর্মোপদেশে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলেন।

তবে বড়দিনের পরবর্তী আশীর্বাদবার্তায় অভিবাসন ইস্যুতে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেন পোপ। তিনি আমেরিকা মহাদেশ পাড়ি দেওয়া অভিবাসী ও শরণার্থীদের পরিস্থিতি নিয়েও দুঃখ প্রকাশ করেন। অভিবাসীদের সুরক্ষাকে অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন তিনি।

অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির সমালোচনা করলেও এবারের ভাষণে পোপ লিও সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি। তবে বুধবার বড়দিনের আগের রাতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেনদরিদ্র ও আগন্তুকদের সাহায্য করতে অস্বীকার করা মানে ঈশ্বরকেই প্রত্যাখ্যান করা।

সম্প্রতি পোপ লিও একাধিকবার গাজার ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত মাসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেনইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের একমাত্র সমাধান হতে পারে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলি জনপদে হামাস নেতৃত্বাধীন হামলার পর শুরু হওয়া টানা দুই বছরের ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ ও সামরিক অভিযানের পর গত অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাস একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবু মানবিক সংস্থাগুলোর মতেগাজায় এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠীই গৃহহীন অবস্থায় রয়েছে।

সেন্ট পিটার্স বাসিলিকায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৃহস্পতিবারের প্রার্থনাসভায় পোপ বিশ্বজুড়ে গৃহহীন মানুষের দুর্দশা এবং যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেননিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর শরীর খুবই নাজুকযারা চলমান বা শেষ হওয়া অসংখ্য যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষতযেখানে পড়ে থাকে ধ্বংসস্তূপ আর খোলা ক্ষত।

তিনি আরও বলেননাজুক তরুণদের মন ও জীবনযাদের অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য করা হয়। সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে তারা উপলব্ধি করে তাদের কাছে যা চাওয়া হচ্ছে তার অর্থহীনতা এবং সেই সব জাঁকজমকপূর্ণ ভাষণের মিথ্যাচারযার আড়ালে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়।

বড়দিন উপলক্ষে ‘উরবি এৎ অরবি’অর্থাৎ নগর ও বিশ্বের উদ্দেশে দেওয়া বার্তা ও আশীর্বাদে পোপ লিও সব বৈশ্বিক সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানান। সেন্ট পিটার্স বাসিলিকার কেন্দ্রীয় বারান্দা থেকে তিনি ইউক্রেনসুদানমালিমিয়ানমারথাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিকসামাজিক ও সামরিক সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন।

ইউক্রেনে চলমান সহিংসতা নিয়ে তিনি বলেনরুশ বাহিনী দেশটির পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকে হুমকির মুখে ফেলায় সেখানকার মানুষ ‘সহিংসতায় জর্জরিত’। পোপ বলেনঅস্ত্রের শব্দ থেমে যাক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ও অঙ্গীকারে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যেন আন্তরিকসরাসরি ও সম্মানজনক সংলাপে বসার সাহস পায়।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে টানা তৃতীয় সপ্তাহের সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে পোপ দুই দেশের ‘প্রাচীন বন্ধুত্ব’ পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। তিনি বলেনএই বন্ধুত্বই পুনর্মিলন ও শান্তির পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে।