বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পরপরই আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই কঠোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
রয়টার্স ও ফক্স নিউজের বরাতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছে। মূলত ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি কল্যাণভাতার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জারি করা এক আদেশে বলা হয়েছে, যেসব দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অগ্রহণযোগ্য হারে সরকারি কল্যাণভাতা গ্রহণ করে থাকে, সেসব দেশের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত হতে পারছে না যে নতুন অভিবাসীরা মার্কিন জনগণের সম্পদের ওপর বোঝা হবে না, ততক্ষণ এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদারতার সুযোগ নিয়ে যারা সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে উঠতে পারে, তাদের অযোগ্য ঘোষণার ক্ষেত্রে দপ্তর তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।”
স্থগিতাদেশের তালিকায় থাকা ৭৫টি দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত মহাসাগরীয় ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশসমূহ এবং আফ্রিকার বিশাল একটি অংশ। তালিকায় আরও রয়েছে রাশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, কুয়েত ও ইরাকের মতো দেশ।
গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসের কাছে এক আফগান নাগরিকের গুলিতে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য নিহতের ঘটনার পর থেকেই ট্রাম্প অভিবাসন বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। তারই অংশ হিসেবে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানটি কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে কনস্যুলার কর্মকর্তারা এখন থেকে সহজেই যেকোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন যদি তারা মনে করেন আবেদনকারী নিজের খরচে জীবনযাপন করতে সক্ষম নন।
তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হচ্ছে- দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভুটান ও নেপাল এবং অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, মিসর, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, কিউবা, মিয়ানমার ও কাজাখস্তানসহ ৭৫টি রাষ্ট্র।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২১ জানুয়ারি থেকে এই আদেশ কার্যকর হলে হাজার হাজার বৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীর ভাগ্য অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ধরে পারিবারিক বা কর্মসংস্থান ভিত্তিক ভিসার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ মেয়াদে আটকে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে বাংলাদেশে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
-এম এইচ মামুন










