বিতর্কিত মন্তব্যের পর গাজায় পুনর্বসতির পরিকল্পনা নেই বললেন ইসরায়েলি মন্ত্রী

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ

গাজা উপত্যকায় পুনরায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে স্পষ্ট করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। এর আগে দেওয়া এক মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হলে মঙ্গলবার তিনি এ বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেন।

পশ্চিম তীরের একটি ইসরায়েলি বসতিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাটজ বলেছিলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কখনোই পুরো গাজা ছাড়বে না এবং সেখানে ‘নাহাল’ ইউনিট মোতায়েন থাকবে। অতীতে এসব নাহাল ইউনিট ইসরায়েলি বসতি স্থাপনে ভূমিকা রেখেছিল—এমন মন্তব্যের পরই গাজা পুনর্বসতির ইঙ্গিত হিসেবে তা ব্যাখ্যা করে কিছু ইসরায়েলি গণমাধ্যম।

এর পর এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, “গাজা উপত্যকায় কোনো বসতি স্থাপনের ইচ্ছা সরকারের নেই।” তিনি জানান, নাহাল ইউনিটের প্রসঙ্গটি ছিল শুধুমাত্র নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গত অক্টোবরে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েল ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং সেখানে কোনো বেসামরিক বসতি পুনঃস্থাপন করবে না। তবে চুক্তিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একটি ইসরায়েলি ‘নিরাপত্তা বলয়’ বজায় রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম কাটজের মন্তব্যকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির “স্পষ্ট লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সব পক্ষের কাছ থেকে চুক্তি মেনে চলার প্রত্যাশা করে।”

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগেও বারবার গাজায় বসতি পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তবে তাঁর জোট সরকারের কিছু কট্টর জাতীয়তাবাদী নেতা গাজা পুনর্দখলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাটজ বলেন, নেতানিয়াহুর সরকার “বসতি-বান্ধব সরকার” এবং ভবিষ্যতে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বেড়েছে, যা ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মহলের মতে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী—যদিও ইসরায়েল তা মানতে নারাজ।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ইস্যুতে কাটজের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি করতে পারে। আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বৈঠকের আগেই এই বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সূত্র: রয়টার্স

মানসুরা মানজিল চৈতী/