সুদানে হেগলিগের সংঘর্ষ থেকে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ

সুদানের হেগলিগ এলাকায় সংঘর্ষ থেকে পালানো হাজারো মানুষ কোস্তির হোয়াইট নাইল প্রদেশের গোস আলসালাম শরণার্থী শিবিরে পৌঁছেছেন এবং তারা চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন।

প্যারামিলিটারি র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF) সম্প্রতি কৌশলগত হেগলিগ তেলক্ষেত্র দখল করেছে, যার ফলে প্রায় ১,৭০০ মানুষ—যার মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু—প্রায় শূন্য হাতে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

শরণার্থীরা জানাচ্ছেন, প্রাথমিক জিনিসপত্রের তীব্র অভাব রয়েছে। শিবিরের এক বয়স্ক নারী বলেন, “আমাদের কাছে কম্বল বা চাদর নেই, কিছুই নেই।” কিছু মায়ের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ; উদাহরণস্বরূপ উম্ম আজমি নামে এক মা রাস্তাতেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন, চিকিৎসা সহায়তা ছাড়াই।

প্যারামিলিটারি র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)  ও সুদান সশস্ত্র বাহিনী (SAF) মধ্যে চলমান সংঘর্ষ এখন তৃতীয় বছরে প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, এই সংঘর্ষের কারণে ১৪ মিলিয়ন মানুষ তাদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে এবং ২১ মিলিয়ন মানুষ তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও মানবিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুদানের নিরাপত্তা ও মানবিক অবস্থা তীব্রভাবে অবনতি করছে। দেশজুড়ে অনিয়ন্ত্রিত হামলা বৃদ্ধি, র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)-এর দখলকৃত অঞ্চল সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষ, সহায়তা কর্মী ও শান্তিরক্ষীদের জন্য ঝুঁকি বাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সংঘাত এপ্রিল ২০২৩-এ সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (SAF) এবং RSF-এর মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের ফলে শুরু হয়। তার পর থেকে দেশজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়েছে, শহরগুলো ধ্বংস হয়েছে, মিলিয়ন মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে এবং দরফুরসহ কিছু অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা বেড়েছে।

জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক সহ-সচিব খালেদ কিয়ারি সতর্ক করেছেন, শুষ্ক মৌসুমের আগমনে সংঘর্ষ আরও তীব্র হতে পারে।

তথ্য: ইউ এন নিউজ

মানসুরা মানজিল চৈতী/