প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লুইজিয়ানা গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ডের জন্য বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে এই আর্কটিক দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন, তার কৌশলগত অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের কারণে।
তিনি বলেন,
“আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড দরকার… রাশিয়ান ও চীনা জাহাজ সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে। আমাদের এটি অবশ্যই প্রয়োজন।”
ল্যান্ড্রিও এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং বলেন, “গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে এই স্বেচ্ছাসেবী পদে কাজ করা আমার জন্য গর্বের বিষয়।”
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড এই পদক্ষেপকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন ও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডরিক নিলসেন বলেন, “গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডিদের। যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারবে না।” ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেনও এই নিয়োগকে “সম্পূর্ণভাবে গ্রহণযোগ্য নয়” বলে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কেথেন হাওয়ারিকে তলব করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন আরও উত্তেজনা বাড়িয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পাঁচটি বড় অফশোর উইন্ড প্রকল্পের লিজ স্থগিত করা হয়েছে, যার মধ্যে দুইটি ডেনমার্কের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত ওরস্টেড দ্বারা উন্নয়নাধীন।
প্রায় ৫৭,০০০ মানুষের গ্রিনল্যান্ড একটি স্ব-শাসিত ডেনিশ অঞ্চল। ২০০৯ সালের চুক্তি অনুযায়ী এটি স্বাধীনতার অধিকার রাখে, তবে এখনও মাছ ধরা ও ডেনমার্কের অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং খনিজ সম্পদ চীনা আমদানি কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডরিক নিলসেন বলেন, “ঘোষণাটি আমাদের জন্য কিছু পরিবর্তন করে না। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিজে সিদ্ধান্ত নিই।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী মিত্রতার সম্পর্কের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে, যদিও দীর্ঘদিন ধরে আর্কটিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চলে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স
মানসুরা মানজিল চৈতী/










