বিএনপিতে ৭ নেতার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হলো

ফরিদপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের সাতজন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাদের আবার বিএনপির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাদের আগের কোনো পদে পুনর্বহাল করা হয়নি। আপাতত সবাইকে বিএনপির সাবেক নেতা হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন। তিনি জানান, রোববার রাতে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট নেতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং উপজেলা বিএনপি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলেও জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা এবং সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন। একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি কেন্দ্রীয় বিএনপি, বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ এবং জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

যাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে, তারা হলেন বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাফিউল আলম মিন্টু, মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক মুন্নু, নওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক, জাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আজাদ খান, রায়পুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. কাজী সিরাজুল ইসলাম, মধুখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম এবং রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর সরদার।

এ বিষয়ে সাতৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম মিন্টু জানান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আগের কমিটিগুলো ইতোমধ্যে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে সম্মেলনের মাধ্যমে সেখানে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন আরও বলেন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদনপত্রে সংশ্লিষ্ট নেতারা তাদের আগের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে দলের বিপক্ষে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির পাশাপাশি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও ধানের শীষের প্রার্থীর সুপারিশের ভিত্তিতেই জেলা বিএনপি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তারা দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে বিএনপির পক্ষে কাজ করতে পারবেন।

বিথী রানী মণ্ডল/