জন্মদিনে এর চেয়ে স্বস্তিদায়ক ও স্মরণীয় উপহার আর কী হতে পারে! একজন বৃক্ষপ্রেমিক পেতে পারেন শতবর্ষী বনসাই, বইপ্রেমিকের হাতে উঠতে পারে হেমিংওয়ে বা পাওলো কোয়েলহোর উপন্যাস, ভ্রমণপিপাসু ছুঁয়ে দেখতে পারেন ইতিহাসের পথ। আর যদি তিনি হন গোলের নেশায় বুঁদ এক স্ট্রাইকার—তাহলে জন্মদিনের সেরা উপহার যে গোল ও রেকর্ড, তা বলাই বাহুল্য।
নিজের ২৭তম জন্মদিনে ঠিক তেমনই এক উপহার পেলেন কিলিয়ান এমবাপে। শনিবার রাতে লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি ভাগ বসালেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এক ঐতিহাসিক রেকর্ডে।
ম্যাচের ৮৭ মিনিটে করা ওই গোলটি শুধু রিয়াল মাদ্রিদের জয়ই নিশ্চিত করেনি, বরং এমবাপেকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য এক মাইলফলকে। একটি ফুটবলীয় ক্যালেন্ডার বছরে রোনালদোর গোলসংখ্যা ছিল ৫৯। শনিবারের গোলের মাধ্যমে এমবাপে সেই রেকর্ড স্পর্শ করেন।
চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফরাসি ফরোয়ার্ড লিগে এখন পর্যন্ত ১৮ গোল করেছেন, সঙ্গে রয়েছে ৪টি অ্যাসিস্ট। লা লিগায় বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের চেয়ে ৭ গোল বেশি এমবাপের।
জন্মদিনে গোল ও রেকর্ড গড়ে ম্যাচ শেষে এমবাপে বলেন,
“এটি আমার জন্য বিশেষ একটি দিন। আজ আমার জন্মদিন। আমি সবসময় বলেছি, জন্মদিনে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা ছিল আমার স্বপ্ন। এই ক্লাবটাই আমার স্বপ্ন।”
রিয়াল মাদ্রিদ টিভিকে তিনি আরও বলেন,
“সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভালো ফলাফল এবং অবিশ্বাস্য রেকর্ড দিয়ে বছর শেষ করা।”
নিজের আদর্শ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ডে ভাগ বসানো নিয়ে এমবাপের অনুভূতিও ছিল আবেগঘন।
“ক্রিস্টিয়ানো যা করেছে, তেমন কিছু করতে পারা সত্যিই আনন্দের এবং গর্বের। সে আমার আইডল। সে রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার এবং বিশ্বসেরা।”
পরিসংখ্যানেও দুই তারকার তুলনা চোখে পড়ার মতো। ২৭ বছর বয়স পর্যন্ত ৫৩১ ম্যাচে রোনালদোর গোল ছিল ২৭২টি, সঙ্গে ১০৬টি অ্যাসিস্ট। একই বয়সে এমবাপে খেলেছেন ৫৪৪ ম্যাচ—গোল করেছেন ৪১০টি এবং অ্যাসিস্ট করেছেন ১৭৬টি, যা রোনালদোর চেয়ে ১৩৮ গোল বেশি।
এই কীর্তির পেছনে অনুপ্রেরণার কৃতিত্বও নিজের আইডলকেই দিতে চান এমবাপে। তিনি বলেন,
“আমি রোনালদোর প্রতি একটি ইশারা দিতে চেয়েছিলাম। তিনি সবসময় আমার প্রতি আন্তরিক ছিলেন, মাদ্রিদে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিতেন।”
সবশেষে, নিজের ছোটবেলার নায়ককে সম্মান জানাতে জন্মদিনের বিশেষ গোলের পর রোনালদোর মতোই উদযাপন করেন এমবাপে—যেন ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের এক আবেগী সংযোগ।
এমইউএম/










