‘অসুস্থ’ সেজে চাকরি ছাড়ার হিড়িক!

সিলেটে অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে চাকরি ছাড়ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পেনশনসহ চাকরিত্তোর সুবিধা পেতে তারা বেছে নিচ্ছেন এ অভিনব পন্থা। চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে বেশির ভাগই পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে। গত তিন বছরে অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে এভাবে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছেন। তবে চাকরি থেকে অব্যাহতি না নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা এর কয়েকগুণ বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন-চার বছর ধরে সিলেটের সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে ওয়ার্কপারমিটে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সিলেটের লোকজনের মধ্যে বিদেশমুখী প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া গত ৩ বছরে বিপুলসংখ্যক সিলেটের মানুষ কানাডার ভিজিট ভিসা পেয়েছেন। এদের বেশির ভাগই ভিসা পেয়েছেন সপরিবারে। ভিজিট ভিসায় কানাডায় গিয়ে তারা সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। বিদেশগামী এসব লোকজনের মধ্যে অনেকেই সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন। ফলে চাকরি ছেড়েই তাদের পাড়ি জমাতে হচ্ছে বিদেশে। এর মধ্যে যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি তারা পেনশনসহ অবসরোত্তর অন্যান্য সুবিধা পেতে শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা দেখিয়ে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার আবেদন করছেন। সূত্র জানায়, স্বেচ্ছায় অবসরের বিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ২৫ বছর চাকরি করার পর পেনশন সুবিধাসহ স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার সুযোগ পান। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা ঐচ্ছিক অবসরের আইনি ভিত্তি প্রদান করেছে। স্বেচ্ছায় অবসরের জন্য অন্তত ৩ মাস আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করতে হয়। এভাবে যারা স্বেচ্ছায় অবসরে যান তারা গ্র্যাচুইটি, অবসর-পরবর্তী ছুটির আর্থিক সুবিধা এবং অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পেয়ে থাকেন।

সিলেট সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, ২০২২ থেকে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সিলেটে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ১১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা দেখিয়ে স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন। এর মধ্যে ২০২২ সালে ২৮, ২০২৩ সালে ৩০ ও ২০২৪ সালে ৫২ জন আবেদন করেছেন। কিন্তু মেডিকেল বোর্ডের পরীক্ষায় এসব আবেদনকারীর বেশির ভাগই প্রত্যাখ্যাত হয়। সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, ২০২২ সালে ১২ জন, ২০২৩ সালে ১৫টি ও ২০২৪ সালে ২৭টি আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়েছে। তবে আবেদন প্রত্যাখ্যান হলেও বেশির ভাগ আবেদনকারী পরবর্তীতে কৌশলে চাকরি থেকে অব্যাহতি না নিয়েই বিদেশ পাড়ি জমিয়েছেন। এ ছাড়া গত তিন বছরে সিলেটের কয়েক শ প্রাথমিক শিক্ষক চাকরি থেকে অব্যাহতি না নিয়েই গোপনে বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন।

সিলেটের সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিন জানান, সরকারি চাকরিতে কর্মরত কোনো ব্যক্তি যদি শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে উপস্থিত থাকেন সংশ্লিষ্ট খাতের দায়িত্বশীল বিশেষজ্ঞ ও সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিনিধি। বোর্ড আবেদনকারীর কাগজপত্র ও প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে মতামত প্রদান করে।