১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যেত কি না— সে বিষয়ে একটি দলকে নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রসঙ্গ তুলেছে কমনওয়েলথের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই দলের তরফ থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন কমনওয়েলথের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সদস্যরা।
বৈঠক শেষে আসিফ নজরুল বলেন, “ওনারা জানতে চেয়েছেন— নির্বাচন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যেত কি না, অর্থাৎ আরেকটি দল এতে থাকতে পারত কি না। জবাবে আমি বলেছি, ওই দলের পক্ষ থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনে আসার জন্য কোনো পদক্ষেপ তো দূরের কথা, বরং তারা যেভাবে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, সেই গণহত্যার দায়ে তাদের সিনিয়র নেতাদের বিচার চলছে।”
তিনি বলেন, “তাদের প্রধান নেত্রীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে। তিনি বিদেশে বসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তি এবং বর্তমান সরকারের সদস্যদের হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন, কর্মীদের দিয়ে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাদের দল ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো নেতার কাছ থেকেই আমরা অনুশোচনা বা নিন্দাসূচক বক্তব্য দেখিনি।”
আসিফ নজরুল আরও বলেন, “যখন ঐকমত্যের প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়, তখন অপর পক্ষের আচরণ বিবেচনায় নিতে হয়। আমাদের কাছে কখনোই মনে হয়নি যে তারা সংস্কার, নতুন রাষ্ট্র গঠন বা প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সামান্য আগ্রহও দেখিয়েছে। বরং তারা যে ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিল, সেটার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষেই কথা বলছে।”
তিনি বলেন, “এমন অবস্থায় তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে নির্বাচনে আনা কীভাবে সম্ভব? তাদের বক্তব্য, আচরণ বা মানসিকতার মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির কোনো ইঙ্গিত ছিল না।”
নারী ভোটারদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, “আমি তাদের জানিয়েছি, বাংলাদেশে নারী ভোটারদের ভয়ের মধ্যে পড়ার মতো কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা সব সময়ই ঘটে, কিন্তু এর কারণে নারী ভোটারের অংশগ্রহণ কমবে বলে আমি মনে করি না।”
তিনি আরও বলেন, “বরং আমার বিশ্বাস, এবার নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে আরও বাড়বে। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে হিজাব, বোরখা বা নিকাব পরা নারী সমাজের একটি বড় অংশ মার্জিনালাইজড ছিল এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। সেই নারীদের বড় একটি অংশ এবার আরও আগ্রহের সঙ্গে ভোট দিতে আসবে।”
সবশেষে তিনি বলেন, “সব মিলিয়ে আমরা একমত হয়েছি যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসর ও জনজীবনে নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আমি আশাবাদী, রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে সচেতন ভূমিকা পালন করবে।”
-এমইউএম










