সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ভ্যান্স একটি সাদা টি-শার্ট পরে ভ্রুকুটি করে তাকিয়ে আছেন, আর তার বিপরীতে বসে থাকা ঊষা মাথা নিচু করে মুখে হাত দিয়ে আছেন। লোকজন এই ছবিটিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চিরায়ত মনোমালিন্যের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
ভাইরাল ছবিটি শেয়ার করে একজন ‘এক্স’ ব্যবহারকারী লিখেছেন, মনে হচ্ছে রিপাবলিকানস্থানে পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। অনেকে আবার ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি বলেও মন্তব্য করেছেন।
এই জল্পনার জবাবে জে ডি ভ্যান্স রসিকতা করে বলেন, আমি যখন জনসমক্ষে গিয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে উচ্চস্বরে ঝগড়া করি, তখন সব সময় একটি গেঞ্জি পরি।
অক্টোবর মাস থেকেই ভ্যান্স দম্পতি মনোযোগের কেন্দ্রে আসেন, যখন ভাইস প্রেসিডেন্টকে প্রয়াত টার্নিং পয়েন্টের প্রতিষ্ঠাতা চার্লি কার্কের বিধবা স্ত্রী এরিকা কার্ককে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়। সেই মুহূর্তটি নিয়ে নানা গুঞ্জন ওঠে, যা নভেম্বর-ডিসেম্বরে আরও জোরালো হয়, কারণ এই সময়ে ঊষা তার বিয়ের আংটি ছাড়াই ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।
‘সেকেন্ড লেডি’-র একজন মুখপাত্র দ্রুত এই গুজব উড়িয়ে দেন। মুখপাত্র বলেন, ঊষার আঙুলে আংটি না থাকার সঙ্গে তাদের দাম্পত্য জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই। একজন ব্যস্ত মা হিসেবে, তিনি প্রচুর থালাবাসন পরিষ্কার করেন, বাচ্চাদের স্নান করান এবং মাঝে মাঝে আংটিটি ভুলে যান।
২০১৪ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ভ্যান্স ও ঊষার দুই ছেলে (ইওয়ান এবং বিবেক) এবং এক মেয়ে (মিরাবেল) সহ মোট তিন সন্তান রয়েছে।
এর আগেও ভ্যান্স তাঁর স্ত্রীর বিশ্বাস নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। মিসিসিপিতে একটি টার্নিং পয়েন্টের ইভেন্টে তিনি আশা প্রকাশ করেন, হিন্দু পরিবারে বড় হওয়া ঊষা একদিন খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করবেন। তিনি জানান, ঊষা প্রায়শই তার সঙ্গে চার্চে যান এবং তিনি আশা করেন, ক্যাথলিক ঐতিহ্য তাকে একদিন স্পর্শ” করবে। এই মন্তব্য অনলাইনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
সম্প্রতি ভ্যান্স আরও সমালোচনার মুখে পড়েন যখন তিনি ব্যাপক অভিবাসনকে ‘আমেরিকান স্বপ্নের’ জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা মনে করিয়ে দেন যে, ঊষা ভারতীয় অভিবাসীদের আমেরিকান-বংশোদ্ভূত কন্যা।
ম/ম