মৌলভীবাজার খলিলপুর ইউনিয়নে বিট্রিশ নাগরিকের বাড়ি ঘর দখল করতে গিয়ে চাচাত্ব ভাইর পালক পুত্র গংদের হামলায় ৩ জন মারাত্নক আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার লামুয়া (পংমদপুর) গ্রামে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে আয়াজ উল্যা (৬৩) প্রবাসীর বসত বাড়িতে হামলা, কুপিয়ে জখম ও নগদ টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। হামলায় প্রবাসী আয়াজ উল্যা সহ তার চাচাতো ভাইর ছেলে মামুন মিয়া (২৪) ও তার স্ত্রী গোল বিবি (৫৪) মারত্নক ভাবে আহত হন। এ ঘটনায় আয়াজ উল্যা বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১ নং খলিলপুর ইউনিয়নের লামুয়া (পংমদপুর) আয়াজ উল্যা একজন বৃটিশ প্রবাসী নাগরিক। তিনি মাঝে মধ্যে দেশে এসে নিজ বাড়িতে অবস্থান করেন এবং পুনরায় ইংল্যান্ডে ফিরে যান। তার অনুপস্থিতিতে আত্মীয় চাচাতো ভাইর ছেলে মামুন মিয়া (২৪), ভাইয়ের স্ত্রীগোল বিবি (৫৪) বাড়িঘর দেখাশোনা করে আসছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকার খলিলপুর ইউনিয়নের লামুয়া (পংমদপুর) গ্রামের নুহান মিয়া (২৭), এমরুল মিয়া (৩২), আলী আমজদ (৩৪), জুবেদ মিয়া (৩০), আলী আব্বাছ , নজরুল ইসলাম (৩৫), রাশেদা আক্তার (২৫) গং বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। ঘটনার দিন অভিযুক্তরা রড, লাঠি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে বসত বাড়িতে প্রবেশ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর শুরু করে।
আয়াজ উল্যা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তদের একজন ধারালো রামদা দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দেয়। আত্মরক্ষার্থে হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে তার ডান হাতের অনামিকা আঙুলে গুরুতর কাটা জখম হয়। এসময় অন্য অভিযুক্তরা লাঠি ও রড দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
বাড়িতে থাকা চাচাত্ব ভাইর ছেলে ও তার স্ত্রী দুজন এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। একজনের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং আরেকজনের হাতে ও কোমরে আঘাত লেগে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া গোল বিবিকে চুল ও কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে।
হামলাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র তছনছ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে আহতরা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। বর্তমানে প্রবাসীর পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভিতর জিম্মি অবস্থায় আছেন।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিলাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমি অবগত হয়েছি। মৌলভীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
-রিপন আহমদ, মৌলভীবাজার










