দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সূরা মসজিদ সুলতানি আমলের এক অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন। বিশেষ করে হোসেন শাহী আমলে নির্মিত এই প্রাচীন মসজিদটি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবেগের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
প্রতিদিনই এখানে দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকলেও ছুটির দিন ও বিকেল বেলায় লোকসমাগম তুলনামূলক বেশি হয়। বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজের পর অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি মানতের খাবার বিতরণ করেন। ফলে মসজিদ প্রাঙ্গণ ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
সূরা মসজিদটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত-
১) মূল নামাজ কক্ষ
২) বারান্দা
মূল নামাজ কক্ষের পরিমাপ প্রায় ৭.৮৪ মিটার × ৭.৪৪ মিটার এবং বারান্দার পরিমাপ আনুমানিক ৪.৮৪ মিটার × ৩.১২ মিটার। মসজিদটি ছোট আকৃতির ইট ও চুন-সুরকির মিশ্রণে নির্মিত। দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ১.৪০ থেকে ১.৮০ মিটার, যা সে সময়ের স্থাপত্যশৈলীর দৃঢ়তা ও কারিগরি দক্ষতার প্রমাণ বহন করে।
মূল নামাজ কক্ষের ছাদ একটি অর্ধবৃত্তাকার গম্বুজ দ্বারা আবৃত। বারান্দার উপর রয়েছে এক সারিতে তিনটি গম্বুজ। নামাজ কক্ষের চার কোণে চারটি এবং বারান্দায় দুটি পাথরের বুরুজ স্থাপিত হয়েছে, যা মসজিদটির সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব বাড়িয়েছে।
মসজিদে প্রবেশের জন্য পূর্ব দিকে তিনটি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ রয়েছে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে দরজা আছে। বারান্দার উত্তর ও দক্ষিণ পাশেও পৃথক প্রবেশপথ লক্ষ্য করা যায়।
মসজিদের ভেতরে পশ্চিম দেয়ালে তিনটি সুন্দর অলংকৃত অবতল পাথরের মিহরাব রয়েছে, যা নান্দনিক শৈল্পিকতার অনন্য উদাহরণ। বাইরের দেয়ালে দুটি সারিতে অলংকৃত ইটের প্যানেল নকশা এবং মাঝখানে পাথরের বন্ডিং ব্যান্ড দেখা যায়-যা সমসাময়িক সুলতানি আমলের স্থাপত্যে বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মসজিদটি হোসেন শাহী (খ্রিষ্টীয় ১৫শ-১৬শ শতক) আমলের নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। এটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক মূল্যবান দলিল।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রাচীন এই স্থাপনাটি সংরক্ষণ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আরও উন্নয়ন করা হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
–সাকিব হাসান নাইম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)










