দরজায় কড়া নাড়ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচন। নগরীর ৪২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ সিটি কর্পোরেশনকে ঘিরে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা-সমালোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘুরছে চায়ের আড্ডা থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে। নগরবাসীর আগ্রহ-কে হচ্ছেন আগামী দিনের নগরপিতা?
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসেছে বড় পরিবর্তন। অপসারিত হয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা, বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে চলছে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন। তবে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা ও নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে সরকার। ঈদের পরপরই সিলেটসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটে বিএনপির অভাবনীয় সাফল্যের পর নগর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ফলে সিসিক নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে কৌতূহল ও প্রতিযোগিতা।
সিসিকের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালের ২১ জুন। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এ অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন ২০২৭ সালের জুনে হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দেশত্যাগ করেন।
২০২১ সালের ৩১ আগস্ট সীমানা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিসিকের আয়তন ২৬.৫০ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯.৫০ বর্গকিলোমিটারে। বর্তমানে এ সিটি কর্পোরেশনের জনসংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিসিকের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৮ জন। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনের আওতাভুক্ত ৩৬টি ওয়ার্ডে (১-২৭ ও ৩১-৩৯ নম্বর) ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭২ জন। অন্যদিকে সিলেট-৩ আসনের আওতাভুক্ত ৬টি ওয়ার্ডে (২৮-৩০ ও ৪০-৪২ নম্বর) ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৬১৬ জন।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নগরজুড়ে বইছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার হাওয়া। দলীয় মনোনয়ন, জোট-সমীকরণ ও ভোটারদের প্রত্যাশা-সব মিলিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবার হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
এখন সময়ের অপেক্ষা-নগরবাসীর আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে কে বসছেন সিসিকের মেয়র চেয়ারে।
-আহমেদ পাবেল, সিলেট










