আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী আলোচনা ও তর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান করেছে বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের ব্যবহার। বিশেষ করে আরবি, ফার্সি ও উর্দূ শব্দ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।গতকাল সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডিটোরিয়ামে শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ শব্দ ব্যবহারকে বাংলা ভাষার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রশ্ন তোলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুরও বিভিন্ন বিদেশি শব্দ যেমন ‘ইনসাফ’, ‘জুলুম’, ‘মজলুম’, ‘ফয়সালা’ প্রভৃতি উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহারে আপত্তি তোলেন। অধ্যাপক মনজুর বলেন, এসব শব্দের ব্যবহার ভাষার সমস্যার চেয়ে রাজনৈতিক ব্যবহারের কারণে বিভাজনের সৃষ্টি করে। তিনি উল্লেখ করেছেন, যে কোনো শব্দ ভাষায় ঢুকতে পারে, কিন্তু তা যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়, তা তখন বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয় না।
তিনি আরও বলেন, “বাংলা ভাষার বিকৃতি বা হুমকি নেই, তবে বিশেষ কিছু শব্দের রাজনৈতিক প্রয়োগ জাতিগত বা সামাজিক বিভাজনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। এই শব্দগুলো কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাবে, যদি ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন ভাষায় তা প্রভাবিত না করে।”
এই বক্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অধ্যাপক মনজুরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণও দেখা গেছে। তবে অধ্যাপক মনজুর তার প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট করেছেন যে, তার মূল বক্তব্য ভাষাতাত্ত্বিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে শব্দ ব্যবহারের পার্থক্য তুলে ধরাই ছিল।
উল্লেখ্য, এই বিতর্ক দেশের মিডিয়ায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও “টক অব দ্য কান্ট্রি” হিসেবে রয়ে গেছে।
-বেলাল










