পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, হাটহাজারীতে অপরাধ ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী সবার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি উপজেলার বিএনপি আয়োজিত অমর একুশের কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সরকারি জমি ও খাল দখলমুক্ত করতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, খাল পুনরুদ্ধার করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে, যাতে কৃষকরা উপকৃত হন। পাশাপাশি যানজট নিরসনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বাসস্ট্যান্ড থেকে চৌধুরীহাট, বড়দিঘীর পাড় ও অক্সিজেন এলাকা পর্যন্ত যানজট কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এ কাজে সামাজিকভাবে স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
সড়ক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চৌধুরীহাট এলাকার সড়কের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে আরও কয়েকটি সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হবে। যেসব সড়কের অনুমোদন বা অর্থায়ন হয়নি, সেগুলোর তালিকা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হাটহাজারীর পাঁচ লাখ মানুষের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবেন।
হাটহাজারীতে ১৭টি সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি আরও প্রায় ২৭টি দপ্তর রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমন্বিতভাবে কাজ করলে ছোটখাটো সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান সম্ভব।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সারাদেশে এক কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। এতে কোনো দল, ধর্ম, গোত্র বা শ্রেণিভেদে বৈষম্য থাকবে না। হাটহাজারীতে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত ও সচল এই চার শ্রেণিতে তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সন্তান হিসেবে তিনি সবসময় মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চান।
পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। প্রাকৃতিক সম্পদ ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পটে রূপান্তর করা হবে। যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক সেবায় আগামী পাঁচ বছরে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
-এমইউএম










