মশা মারছে ‘মৃত কর্মী’: আপডেট নেই ডিএনসিসির ওয়েবসাইটের

রাজধানীতে যখন মশার কামড়ে জনজীবন অতিষ্ঠ, তখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমে এক অদ্ভুত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন চিত্র ধরা পড়েছে। করপোরেশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে মশা নিধন কর্মীদের যে তালিকা রয়েছে, সেখানে এমন একজনের নাম পাওয়া গেছে যিনি প্রায় আড়াই বছর আগেই মারা গেছেন। শুধু তাই নয়, নির্ধারিত সময়ে মশা নিধন কর্মীদের মাঠে খুঁজে না পাওয়া এবং কার্যক্রমের নামে কেবল ‘ছবি তোলা’র সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।
ডিএনসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের (মিরপুর) মশক নিধন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, অফর আলী নামে এক কর্মীর প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার সাগুফতা আবাসিক এলাকায় দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, অফর আলী প্রায় আড়াই বছর আগে পরলোকগমন করেছেন। অথচ সিটি করপোরেশনের ডেটাবেজ বা ওয়েবসাইটে আজও তাঁর নাম ও মোবাইল নম্বর সচল রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের মশক সুপারভাইজার রকিবুল আলম খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগ রয়েছে, মশা নিধনের লার্ভিসাইডিং (সকালে) ও ফগিং (বিকালে) কার্যক্রমগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, “কর্মীরা যন্ত্রগুলো এনে কার্যালয়ের সামনে রেখে ছবি তোলে। তাদের কাজ মূলত ছবি তোলা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। উত্তরার লেকগুলোতে এখন মশার চাষ হচ্ছে।” মোহাম্মদপুরের বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, তদারকির অভাবে মশা নিধন কার্যক্রম এখন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।
ডিএনসিসির ওয়েবসাইটে তথ্যের এই বিশাল অসংগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উত্তর সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী স্বীকার করেন যে, ওয়েবসাইটের তথ্য অনেক দিন ধরে হালনাগাদ করা হয়নি। এই প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে মশা নিধন কার্যক্রমের প্রকৃত চিত্র আড়ালে থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কীটতত্ত্ববিদদের মতে, বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার মূলত নোংরা ড্রেন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও উত্তরার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মশার চোটে বিকেলের পর দরজা-জানালা খোলা রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কয়েল বা স্প্রে-কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করলে শুধু লোকদেখানো ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
-লামিয়া আক্তার