নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাওয়ার খবর স্থানীয় মহলে আলোচিত হচ্ছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন ব্যবসায়িক খাত হাতবদল হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গিয়াস ও তার ঘনিষ্ঠজনদের প্রকাশ্যে না দেখা যাওয়া নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যিক খাত গিয়াস বলয়ের নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হওয়ার পর তার প্রভাব কমতে শুরু করে বলে দাবি করা হচ্ছে।
নির্বাচনের পর গিয়াস, তার তিন ছেলে ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন প্রভাবশালী বিভিন্ন পক্ষ ব্যবসা ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে একটি শপিংমলসহ কয়েকটি খাতের নিয়ন্ত্রণ বদলের খবরও পাওয়া গেছে।
চিটাগাং রোডের হাজী বদরুদ্দীন সুপার শপিংমল নামের একটি পোশাক মার্কেটকে কেন্দ্র করে গিয়াসউদ্দিন ও সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে হোসেন পরিবার মার্কেটটির নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তারা সরে গেলে গিয়াস তা দখলে নেন এবং প্রায় ১৮ মাস ভাড়া আদায় করেন। পরে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরাজয়ের পরদিনই মার্কেটটি আবার হোসেন বলয়ের নিয়ন্ত্রণে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। এ ঘটনায় নূর হোসেনের ভাই নুরুদ্দিনের নামও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে শিমরাইল মোড়ের ট্রাক স্ট্যান্ড, যা অভ্যুত্থানের পর থেকে গিয়াসের ঘনিষ্ঠ বিএনপি নেতা আয়ুব আলী মুন্সির নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ, সেটিও নতুন একটি গ্রুপ দখলের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্ন সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
অন্যদিকে, পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মার্কেটটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মো. লোকমান দাবি করেছেন, কাগজপত্র অনুযায়ী বদরুদ্দীন সুপার মার্কেট তার নামে নিবন্ধিত। তার ভাষ্য, “সব কাগজপত্র পরিষ্কার থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের আগস্টে গিয়াসউদ্দিন দলবল নিয়ে মার্কেটটি দখল করেন।
তিনি আরও বলেন, “মার্কেটের মালিকানা নিয়ে গিয়াস আদালতে একাধিকবার মামলা করলেও আমরা জয়ী হয়েছি। তারপরও পেশিশক্তির মাধ্যমে দখল রাখা হয়েছিল। প্রয়োজনে সব কাগজপত্র দেখাতে প্রস্তুত আছি।”
ঘটনাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর মতে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।
মাহমুদ কাওসার
নারায়ণগঞ্জ










