কৃষকের কাছে ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাত করাসহ যাবতীয় কাজে তথ্য-প্রযুক্তি পৌঁছাতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দপ্তর ও সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, আমাদের সর্বশেষ প্রযুক্তি যাতে দ্রুত সময়ে মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে সকলের সহযোগিতা করতে হবে। তা ছাড়া কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্যখাতে আন্তঃসংযোগ করতে হবে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) কনফারেন্স রুমে ‘এগ্রো টেকনোলজি ট্রান্সফার: গবেষণা থেকে মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার কৌশল’ বিস্তারে কৃষি তথ্য সার্ভিসের ভূমিকা শীর্ষক এক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মাদ এরশাদুল হক। তিনি বলেন, কৃষকের কাছে দ্রুত সর্বশেষ তথ্য পৌঁছাতে হবে। নারী ও যুবকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির অগ্রযাত্রা আরো বাড়াতে হবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুব ইসলাম বলেন, এআইএসের কাজ শুধু প্রচার নয় তার সঙ্গে সমস্যা চিহ্নিত করার দায়িত্বও নিতে হবে। দেখা গেছে, সাতক্ষীরায় বিঘাপ্রতি ৪৪ কেজি সার ব্যবহার করা হয়। সেখানে প্রচার চালানোর পর ২০ কেজিতেই যথেষ্ট পরিমাণ ফলন হয়েছে। এআইএসকে শুধু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। তিনি এআইএসের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমাদের কাজ বৃদ্ধি করতে হলে চিন্তার পরিধি বাড়াতে হবে।
ডিএইর সরেজমিন উইংয়ের (উপকরণ) অতিরিক্ত পরিচালক রওশন আলম বলেন, আমাদের মূল সমস্যা এখন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা। রাজশাহী, নওগাঁয় ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনে নিষেধ করা হয়েছে। নওগাঁতে যে পরিমাণ ধান উৎপাদন হয় অন্যান্য ৫ জেলাতেও সে পরিমাণ উৎপাদন হয় না। এখন নওগাঁতে ধান চাষ না হলে কী ধরনের ভয়াবহ অবস্থা দাঁড়াবে ভাবা যায়? তিনি বলেন, ১৯ জেলায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে লবণাক্ততা রয়েছে। হাওরের ৭ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। সেখানে বন্যায় ধান উৎপাদন ব্যহত হলে খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। কৃষির আলাদা আলাদা ৫টি হটস্পট রয়েছে। এসব স্থানের ফসল, পরিবেশ-প্রতিবেশ আলাদা। তাই ফসল উৎপাদনে এসব বিষয় গুরুত্ব দিতে হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন আইসিটি উইংয়ের পরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, কৃষিতে উন্নয়ন করে দেশের চিত্রই পাল্টে ফেলা হয়েছে। ১০ শতাংশে এক মণ ফল হত, এখন শতাংশে এক মণ। এ পরিবর্তন খাদ্য স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। আমাদের এখন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেব।
সভাপতির বক্তব্যে এআইএসের পরিচালক মো. মসীহুর রহমান বলেন, এআইএসের ২৩৬ জন লোকবলের মধ্যে ২০০ জন কর্মরত আছে। অথচ কাজ করতে হয় ৫ শতাধিক উপজেলা ও থানায়। আমাদের একাডেমিক প্রশিক্ষণ নেই। কল সেন্টারে ধার করা লোক দিয়ে চালানো হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট লোক নেই। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে হবে। তিনি বলেন, কৃষির ১৭টি দপ্তর, সংস্থার মধ্যে আন্তঃসংযোগ বাড়াতে হবে।
– -বায়েজীদ










