তিব্বতের মানবাধিকার ইস্যুতে নতুন মার্কিন দূত নিয়োগ, চীনের আপত্তির আশঙ্কা

ছবিঃ সংগৃহীত

তিব্বত সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সমন্বয়কারী হিসেবে নতুন দূত নিয়োগ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, রাইলি বার্নসকে তিব্বত বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সমন্বয়কারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০০২ সালে মার্কিন কংগ্রেস এই পদ সৃষ্টি করে। বর্তমানে তিনি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রমবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। খবর আলজাজিরার।

তিব্বতি নববর্ষ ‘লোসার’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, “অগ্নি-অশ্ব বর্ষের প্রথম দিনে আমরা বিশ্বজুড়ে তিব্বতিদের দৃঢ়তা ও সহনশীলতাকে উদযাপন করছি।” তিনি আরও বলেন, “তিব্বতিদের অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং তাদের স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

এই নিয়োগ এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বৈশ্বিক বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থানে রয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে অতীতে বেইজিং এ ধরনের পদ ও নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেছে। ২০২০ সালে একই ধরনের নিয়োগের পর চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছিলেন, “তিব্বত বিষয়ক তথাকথিত সমন্বয়কারী পদ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা। চীন এর দৃঢ় বিরোধিতা করে।”

১৯৫১ সাল থেকে চীন তিব্বত শাসন করে আসছে। সে সময় চীনা সেনাবাহিনী অঞ্চলটিতে প্রবেশ করে, যাকে বেইজিং “শান্তিপূর্ণ মুক্তি” হিসেবে বর্ণনা করে। তবে নির্বাসিত তিব্বতি নেতারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, চীন তিব্বতে পরিবার বিচ্ছিন্নকরণ, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ধর্মীয় দমননীতি চালাচ্ছে। চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের হস্তক্ষেপে সামন্ততান্ত্রিক পশ্চাৎপদ ব্যবস্থার অবসান ঘটেছে।

তিব্বতের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশের বেশি জাতিগত তিব্বতি এবং অধিকাংশই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। যদিও চীনের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা আছে, দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি নাস্তিকতাবাদে বিশ্বাসী।

এদিকে একই দিনে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রেডিও ফ্রি এশিয়া আবারও চীনে সম্প্রচার শুরু করেছে। প্রশাসনিক অর্থসংকটের কারণে গত অক্টোবরে তাদের সংবাদ কার্যক্রম বন্ধ হয়েছিল। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী বে ফাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, কংগ্রেস অনুমোদিত অর্থায়ন ও বেসরকারি সম্প্রচার ব্যবস্থার মাধ্যমে মান্দারিন, তিব্বতি ও উইঘুর ভাষায় পুনরায় সম্প্রচার চালু হয়েছে।

-বেলাল