রাষ্ট্রীয় প্রটোকল আর রাস্তা অবরোধের চিরচেনা দৃশ্য বদলে দিয়ে অতি সাধারণভাবেই নিজের প্রথম অফিস শুরু করেছেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বুধবার দুপুরে কোনো প্রকার রাস্তা বন্ধ না করে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটিয়ে তিনি সচিবালয়ে তার দপ্তরে যোগ দেন।
সকাল ১০টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরে তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করতে যান। এ সময় তার গাড়িবহর চলাচলের জন্য কোনো রাস্তা আটকানো হয়নি। সিগন্যালে দাঁড়িয়ে এবং সাধারণ যানবাহনের সাথেই তার বহর গন্তব্যে পৌঁছায়।
মাজার জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী যখন সচিবালয়ে তার কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখনও রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সময় দীর্ঘক্ষণ রাস্তা বন্ধ রাখার যে চল ছিল, আজ তা দেখা যায়নি। কোনো রকম রাস্তা অবরোধ ছাড়াই তিনি দপ্তরে পৌঁছানোয় সাধারণ পথচারী ও চালকদের মধ্যে বিস্ময় ও স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।
এই ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন: “শপথের পরদিনই তিনি প্রমাণ করে দিলেন তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি। তিনি জনগণের নেতা। নিরাপত্তা রক্ষা সংশ্লিষ্টদের কাজ, কিন্তু সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ুক-এটি তিনি কখনো চান না। অতি সাধারণভাবে তার এই পথচলা এক বড় ইতিবাচক বার্তা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ প্রশাসনের সর্বস্তরে এক বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেবে। এর মাধ্যমে গত দেড় দশকের ‘ভিআইপি কালচার’ বা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চলাচলের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ ফুটে উঠেছে।
–লামিয়া আক্তার










