ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে ভোট জালিয়াতি ও বেআইনি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখার আবেদন করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে এনসিপি নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম এই আবেদনটি জমা দেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর গত শনিবার আবেদনটি লেখা হয়েছিল।
আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনের অন্তত ১২টি ভোটকেন্দ্রে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেন। তার দাবি, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ এবং তার পরিবারের সদস্য ও নেতাকর্মীরা ভোট রিগিং, ফলাফল আটকে রাখা এবং বাতিল ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো গুরুতর অনিয়ম করেছেন।
এনসিপির এই আলোচিত নেতা আরও অভিযোগ করেন, “একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর প্রিসাইডিং অফিসার ও আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তাও এই অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। প্রকৃত ফলাফলকে কারচুপির মাধ্যমে পাল্টে দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস ৫৭,০৯২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পান ৫১,৩৯৬ ভোট। মাত্র ৫,৬৯৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়া নাসীরুদ্দীন শুরু থেকেই ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনঃগণনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, তিনি ন্যায়বিচার পেতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে এই শপথ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা-৮ আসনের এই অসংগতিগুলো নিয়ে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
ইসির প্রতিক্রিয়া
আবেদনটি জমা পড়ার পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচন আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর ফলাফল চ্যালেঞ্জ করতে হলে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার নিয়ম রয়েছে।
-লামিয়া আক্তার










