বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রথা অনুযায়ী বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হলেও এবার তা হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এই ঐতিহাসিক স্থানেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
শপথে সময়ের সূচি
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি দুই ধাপে এই শপথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে:
সকাল ১০টা: জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বিকেল ৪টা: একই স্থানে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সংসদ ভবনকে মর্যাদাদানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থেকেই এবার বঙ্গভবনের বাইরে এই বড় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বাসভবন নিয়ে ধোঁয়াশা: কোথায় থাকছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী?
নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিগত সরকারের বাসভবন ‘গণভবন’ বর্তমানে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য পৃথক কোনো বাসভবন পুরোপুরি প্রস্তুত নেই।
আপাতত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বর্তমান বাসভবন ‘যমুনা’ ছেড়ে দেওয়ার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে তারেক রহমান কি ‘যমুনা’তেই থাকবেন, নাকি গুলশানে তার নিজস্ব বাসভবন থেকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করবেন, তা তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গণভবনের পাশেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন একটি স্থায়ী বাসভবন নির্মাণের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা সম্পন্ন হতে ২-৩ বছর সময় লাগতে পারে।
অতিথিদের আগমন ও প্রস্তুতি
নতুন সরকারের এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানসহ প্রায় এক হাজার দেশি-বিদেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
-লামিয়া আক্তার










