নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, প্রতিহিংসা এবং দখলদারিত্বের রাজনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে এক ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, যা সরাসরি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। তিনি হুশিয়ারী দেন, নতুন করে দখলদারিত্ব রুখে দেবে জনতা।
বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ক্ষমতার উল্লাসে মেতে উঠে একটি পক্ষ ভিন্ন মত ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তির ওপর হামলা চালাচ্ছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েমের একটি সংগঠিত অপচেষ্টা। তিনি বলেন, “তারা প্রমাণ করছে যে তাদের লক্ষ্য গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নয়, বরং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা।
নাহিদ জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও স্বতন্ত্রদের সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় বহু মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
নির্বাচনের ফলাফলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যারা সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তাদের কঠোর সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটকে ঢাল বানিয়ে যারা গণভয় তৈরি করছে, তারা ইতিহাসের ভুল পাশে দাঁড়াচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দমন করে নয়, বরং ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র টিকে থাকে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সন্ত্রাস চালিয়ে মাঠ দখলের রাজনীতি আর সফল হবে না।
সহিংসতা রোধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম তিনটি দাবি জানিয়েছেন। এগুলো হলো, অবিলম্বে দেশজুড়ে সব ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। হামলা ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসনের নীরবতা বা পক্ষপাতিত্ব এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে এবং রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশ আর ভীত-সন্ত্রস্ত নয় উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, নতুন করে কেউ যদি সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব কায়েম করতে চায়, তবে ছাত্র-জনতা ও সচেতন নাগরিক সমাজ গণতান্ত্রিক উপায়ে তার কঠোর জবাব দেবে। তিনি আহ্বান জানান যে, গণতন্ত্র যেন ভয়ের ওপর নয় বরং জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
-বেলাল










