নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রতীককে কেন্দ্র করে তিন সন্তানের জননী (৩২) এক গৃহবধূকে নিজ ঘরে ধর্ষণ ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে তার ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নলেরচর এলাকার একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে এই ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুরে চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর বর্তমান অবস্থা
ভুক্তভোগী নারী জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে দুজন দরজায় পাহারা দেয় এবং ‘রহমান’ নামের একজন তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরদিন (শনিবার) সকালে ৫০ থেকে ১০০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং তাকে টেনেহিঁচড়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। হামলাকারীরা ভোট দেওয়া নিয়ে কটূক্তিও করেছে।
ভুক্তভোগী জানান, সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে তিনি বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “হাতিয়া থেকে আসা ওই নারী শুক্রবার রাতে মারধর ও ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। তাকে গাইনি বিভাগে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চূড়ান্ত মতামত দেওয়া যাবে।”
রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য তুহিন ইমরান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, হাতিয়া আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ধানের শীষ প্রতীকের নেতা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম দাবি করেছেন, “ঘটনাটি সঠিক নয় এবং এটি সাজানো হতে পারে।”
পুলিশের ভাষ্য
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।










