জামায়াতের শক্তিশালী আবির্ভাব দেখছেন শফিকুর রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ভোটের হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি নির্বাচনের গভীর ও জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেন। জামায়াত আমির তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, নির্বাচনে বিএনপি প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যার বিপরীতে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট।

তিনি বর্তমান ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এই পদ্ধতিতে লক্ষ লক্ষ ভোটের সঠিক মূল্যায়ন হয় না। তিনি জানান, ৫৩টি আসনে বিএনপি মাত্র কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দেয়। নির্বাচনী ফলাফলকে সামগ্রিকভাবে স্বীকৃতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েও ডা. শফিকুর রহমান নির্দিষ্ট কিছু আসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, বিতর্কিত কয়েকটি আসন বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

তিনি বলেছেন, যেসব আসনে ভোট গণনায় বিলম্ব বা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে জামায়াত প্রতিনিধিরা আইনি কাঠামোর মধ্যে পুনর্গণনা ও প্রতিকারের চেষ্টা করছেন। এটি ফলাফল প্রত্যাখ্যান নয়, বরং ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষার একটি দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা। জুলাই সনদ এবং গণভোটের ফলাফলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, প্রায় ৬৮ শতাংশ বৈধ ভোট সংস্কারের পক্ষে এসেছে। চার কোটি আট লাখের বেশি মানুষের এই ‘হ্যাঁ’ ভোট পরিবর্তনের জন্য একটি স্পষ্ট জাতীয় ম্যান্ডেট। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার এই আমানতকে সম্মান করবে এবং সংযম ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবে।

ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আইনের শাসন সবার জন্য সমান হতে হবে। একইসঙ্গে তিনি বিএনপির নেতৃত্বের প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন প্রমাণ করেন যে সংবিধানের নিয়মের মধ্যেই তারা দেশ পরিচালনা করবেন এবং আইন লঙ্ঘনকারী যে কোনো কর্মীকে পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

পরিশেষে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিপক্বতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সততা, সংযম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমেই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব বলে তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন।

-বেলাল