ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রশাসন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যা অধিগ্রহণের হুমকি দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আলজাজিরার।
শুক্রবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন-এর সাইডলাইনে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন-এর সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট বৈঠক করেন রুবিও। গ্রিনল্যান্ডের নেতা নিলসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বৈঠকে “এ কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে চলমান আলোচনা-প্রক্রিয়াই সঠিক পথ এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ আবারও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন এক বার্তায় বলেন, “মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে নাউলাক্কেরসুইটের চেয়ারম্যান ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনকে সঙ্গে নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, উচ্চপর্যায়ের কার্যকরী দলে যে সমঝোতা হয়েছে, সে অনুযায়ী কাজ চলবে।
ইউরোপ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক যখন তীব্র চাপে, তখনই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও টানাপোড়েন চলছে, কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের হুমকি দিয়েছেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে “ক্ষয়িষ্ণু” ও “দুর্বল” বলে সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখনই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা করছি।” তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয় গ্রিনল্যান্ড আমাদেরই চাইবে। ইউরোপের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। দেখা যাক কী হয়।” গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কয়েক মাস ধরে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার পর গত মাসে ট্রাম্প কিছুটা নরম অবস্থান নেন। তিনি জানান, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে-এর সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন, যার ফলে খনিজসমৃদ্ধ আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়বে। গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কূটনৈতিক উপায়ে সংকট নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনাও শুরু করে।
জনমতে গ্রিনল্যান্ড নীতি নিয়ে চাপে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন রাশিয়া ও চীনের নিরাপত্তা-ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, ডেনমার্ক এবং বৃহত্তর ইউরোপ কৌশলগত এই অঞ্চল রক্ষায় অক্ষম। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ পরিচালিত এক নতুন জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা মার্কিন জনমনে ভালোভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি— এমনকি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও এর বিরোধিতা রয়েছে। ফেব্রুয়ারি ৫ থেকে ৮ তারিখের মধ্যে পরিচালিত ওই জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের ভূমিকা সঠিক নয়। বিদেশনীতি সামগ্রিকভাবে পরিচালনার তুলনায় এই ইস্যুতে তার প্রতি অসন্তোষের হার বেশি। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও প্রায় অর্ধেক গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন ভূখণ্ডে রূপান্তরের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছেন।
এদিকে সুইডেন জানিয়েছে, ন্যাটোর নতুন আর্কটিক মিশনের অংশ হিসেবে তারা গ্রিনল্যান্ডে টহলের জন্য যুদ্ধবিমান পাঠাবে, যাতে রাশিয়া ও চীনের হুমকি নিয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগ প্রশমিত করা যায়। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, সুইডেন-নির্মিত গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ন্যাটোর নতুন মিশন ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’-র অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ড আকাশসীমায় টহল দেবে। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, “ন্যাটো জোটের সদস্য হিসেবে জোটের সমগ্র ভূখণ্ডের নিরাপত্তায় অবদান রাখা সুইডেনের দায়িত্ব। কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে আর্কটিক অঞ্চল ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।” সুইডিশ সশস্ত্র বাহিনী পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানগুলো আইসল্যান্ড ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হবে। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই সেখানে ছয়টি বিমান ন্যাটোর ঘূর্ণায়মান এয়ার পোলিসিং মিশনের অংশ হিসেবে মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নিতে সুইডেনের বিশেষ বাহিনীর সদস্যদেরও গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
-বেলাল










