নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বিপুল ব্যবধানে জয় নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা এই নির্বাচনী সাফল্যকে ‘ব্যালট বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করছেন। প্রশ্ন উঠেছে এই জনরায় কি তাকে আবারও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে?
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বাবর ১ লাখ ১৯ হাজার ৮২৪ ভোটে জয়লাভ করেছেন। ১৪৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৮টিতে তার জয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বাবর। সেই সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তার কঠোর অবস্থান এখনও দলের ভিতরে আলোচিত।
মদন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম তালুকদার বলেন, “এই বিজয় প্রমাণ করে জনগণ তার নেতৃত্বে আস্থা রাখে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন। দল যদি মূল্যায়ন করে, তাহলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন।”
খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির নেতারা যোগ করেন, “জনগণের প্রত্যাশা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে তাকে কাজে লাগানো হোক।” সাধারণ ভোটার ও ব্যবসায়ী মহলের মতামতও অনুরূপ। খালিয়াজুরী বাজারের ব্যবসায়ী সোহান বিন নবাব বলেন, “আমরা উন্নয়ন ও শান্তি চাই। অভিজ্ঞতা কাজে লাগলে দেশের উপকার হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভা গঠন সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। একটি আসনে বড় ব্যবধানে জয় শক্তিশালী বার্তা দিলেও তা সরাসরি মন্ত্রিত্বের নিশ্চয়তা দেয় না। তবুও তৃণমূলের জোরালো প্রত্যাশা জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাবরের এই বিজয় তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই জনরায়ের কী মূল্যায়ন হয় এবং তা ভবিষ্যৎ দায়িত্ব বণ্টনে কতটা প্রভাব ফেলে।
নেত্রকোনার মানুষের প্রশ্ন একটাই ব্যালট জয়ের এই রায় কি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাবরের ফেরার দরজা খুলছে?
-মহসিন মিয়া, নেত্রকোনা










