সাতক্ষীরার ৪ আসনেই জয় পেল জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।

উৎসবমুখর পরিবেশে ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই জেলার ৬০৯টি কেন্দ্রে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মত। এ জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে মাঠে ছিল সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়।

সাতক্ষীরা ঐতিহাসিকভাবেই জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০০১ সালের নির্বাচনেও এই জেলায় জামায়াত তিনটি আসনে জয়ী হয়েছিল। মাঝে দীর্ঘ বিরতির পর এবারের নির্বাচনে সুশৃঙ্খল প্রচার এবং তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থানের কারণেই বিএনপি প্রার্থীদের পেছনে ফেলে চারটি আসনেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দলটি।

বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) সংসদীয় আসনে জামায়াতের ইজ্জত উল্লাহ পেয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৫৯৪ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের হাবিবুর রহমান পেয়েছেন এক লাখ ৮১ হাজার ৯৬৮ ভোট।

সাতক্ষীরা-২ (দেবহাটা-সাতক্ষীরা সদর) আসনের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক জয়ী হন। তিনি ভোট পান ২ লাখ ৬০ হাজার ৪২৩। সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) দাঁড়িপাল্লার মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এক লাখ ৩২ হাজার ৮৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে জামায়াতের জি এম নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৫ হাজার ৮০৫টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, জনগণ সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়েছে। এ বিজয় একটি দলের নয়; সাতক্ষীরাবাসীর। আগামীতে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সাতক্ষীরা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তবে রিপোর্ট লোখা পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

-বেলাল