বগুড়ার শেরপুরে সরকারি হাসপাতালে ৩ বছরের এক শিশুসহ দম্পতিকে মারধর করে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। জমিজমা সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করাকে কেন্দ্র করে এই বর্বরোচিত হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তারা সুষ্ঠু বিচার ও জীবন নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী মো. নূর আলম শাকিল (৩৭) বলেন, বগুড়ার শেরপুর থানাধীন শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের ৩২৮ শতাংশ জমির দেখাশোনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনার জন্য মূল মালিক তাকে আইনগতভাবে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (আমানত) দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনানুগভাবে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চালিতাডাঙ্গা এলাকার তানিয়া আক্তার ও তার সহযোগীরা ওই সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তারা শাকিলকে এই দায়িত্ব থেকে সরাতে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিল।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর প্রায় ৩টার দিকে শাকিল তার স্ত্রী কামরুন্নাহার রুমি (৩২) ও ৩ বছরের শিশু কন্যা জান্নাতুল রাফাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত তানিয়া আক্তার ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হঠাৎ করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে শাকিল ও তার স্ত্রীকে মারধর করে এবং তাদের ৩ বছরের শিশু কন্যাকেও বাঁচতে দেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে নূর আলম শাকিল বলেন, “সরকারি হাসপাতালের ভেতরে নারী ও শিশুর ওপর এমন পৈশাচিক হামলা করা চরম ধৃষ্টতার পরিচয়। এই হামলার প্রতিটি দৃশ্য হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ওই ফুটেজই প্রমাণ করবে তানিয়া আক্তার ও তার বাহিনী কতটা নির্মমভাবে আমার পরিবারকে আক্রমণ করেছে।” তিনি আরও বলেন, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার জন্য আইনগত পদক্ষেপ নেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আক্রান্ত পরিবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর থানার এসআই জাহিদ জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-শফিকুল ইসলাম বাবলু, বগুড়া










