রোহিত শেট্টির বাড়িতে গুলিকাণ্ডের পর অভিনেতা রণবীর সিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে এখন সরগরম মুম্বাই। পরিচালক রোহিত শেট্টির বাসভবনে গুলি চলার ঘটনার পর রণবীর সিংয়ের কাছেও একটি উড়ো হুমকিবার্তা পৌঁছায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং অভিনেতার জীবনহানির আশঙ্কায় দ্রুত তদন্ত শুরু করা হয়। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় রণবীরের সুরক্ষায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রণবীর সিং বর্তমানে তার স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে ওরলির এক অতি-অভিজাত আবাসনে থাকেন। সেখানে তার জন্য ছ’জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী এবং এক জন উর্দিধারী পুলিশ আধিকারিক মোতায়েন করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই সাতজন কর্মীর প্রত্যেকের কাছেই রয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।
রণবীর যেখানেই যাচ্ছেন বা আবাসনের ভেতরে চলাফেরা করছেন, এই সশস্ত্র বাহিনী তার ছায়ার মতো সঙ্গে থাকছে।
নিরাপত্তার এই কড়াকড়ি ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। অভিনেতার প্রতিবেশীরা এই সশস্ত্র পাহারায় রীতিমতো বিরক্ত ও আতঙ্কিত। তাঁদের আপত্তির মূল কারণগুলো হলো
স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা: আবাসনের জিম, করিডর এবং শিশুদের খেলার জায়গায় সশস্ত্র রক্ষীদের উপস্থিতি বাসিন্দাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করছে।
নিরাপত্তার অভাব: প্রতিবেশীদের দাবি, আবাসনের অন্দরে এভাবে খোলাখুলি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ানো বাকি বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
প্রশাসনিক প্রশ্ন: আবাসন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই দাদর থানায় চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন যে, এই বাড়তি নিরাপত্তা কি সরকারি নির্দেশে দেওয়া হয়েছে নাকি অভিনেতা নিজের উদ্যোগে এটি করেছেন? একইসঙ্গে রক্ষীদের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর বৈধ লাইসেন্স আছে কি না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আবাসিকদের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দূর করতে দাদর থানা উদ্যোগ নিয়েছে। পুলিশের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ইতিমধ্যেই ওই আবাসনে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রশাসন ও আবাসন কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই নিরাপত্তার সমীকরণ কীভাবে বজায় রাখা যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
-বিথী রানী মণ্ডল










