সুনামগঞ্জ-৫ এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মূল লড়াই চলছে

১২ ফেব্রুয়ারি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র একদিন বাকি । শেষ মুহূর্তের প্রচারণা ও ভোটের অঙ্ক কষে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মূল লড়াই হবে।
এই আসনে মোট পাঁচজন দলীয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বাস্তব ভোটের সমীকরণে বিএনপি ও জামায়াতই এগিয়ে রয়েছে। তুলনামূলকভাবে বিএনপি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর সংগঠিত তৎপরতা ও নীরব কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তার অবস্থান সুসংহত হয়েছে, কারণ অপর সম্ভাব্য প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। মিলন নির্বাচিত হলে ছাতকে পৃথক উপজেলা গঠনসহ নানা উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী সিলেট মহানগর জামায়াতের সুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য। শেষ মুহূর্তে নারী ও তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে তিনি ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম তালুকদার বলেন, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা ও হুমকির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণ নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে ইনশাআল্লাহ। বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ধানের শীষ ছাড়া আমাদের কোনো অবস্থান নেই। আর বিএনপি প্রার্থী মিলন দাবি করেন, সুনামগঞ্জ-৫ বিএনপির ঘাঁটি এবং বিপুল ভোটে বিজয় নিশ্চিত হবে।

প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেয়াল ঘড়ি), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল), এনপিপির মো. আজিজুল হক (আম)।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৬২০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। দুটি উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ১৭০টি।

-মোঃ মাইনুদ্দীন, সুনামগঞ্জ