দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর জমজমাট প্রচার-প্রচারণা শেষে এখন শুধুই ভোটের অপেক্ষা। গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর উপজেলা ও গাজীপুর সদর উপজেলা আংশিক) আসনে নির্বাচনী প্রচারণার নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। এখন মাঠের সরগরম মিছিল-স্লোগান না থাকলেও ভোটারদের মনে বইছে উৎসবের আমেজ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিগলি—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই, ‘কে হচ্ছেন পরবর্তী জনপ্রতিনিধি
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শ্রীপুর পৌরসভা, শ্রীপুরের ৮টি ইউনিয়ন এবং গাজীপুর সদর উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রার্থীরা দিন-রাত এক করে প্রচারণা চালিয়েছেন।ব্যানার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। বড় দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে এবার নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
সাধারণ ভোটারদের মাঝে এবার বাড়তি উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা তাদের প্রথম ভোট দেওয়া নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত। উপজেলার বরমী বাজারের একজন ভোটার বলেন:”প্রচারণা শেষ হওয়ায় এখন একটু শান্তি লাগছে। গত কয়েকদিন মাইকের শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে গিয়েছিল। এখন সময় ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করার। আমরা এমন একজনকে চাই যিনি এলাকার উন্নয়নে সবসময় পাশে থাকবেন।”
ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতেও যৌথবাহিনীর টহল ও চেকপোষ্ট লক্ষ করা গেছে। শিল্পাঞ্চল খ্যাত শ্রীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানর শ্রমিকরা বেশিরভাগই অন্য এলাকার ভোটার। তারা নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে ভোট দিতে যাওয়ায় যানবাহনে প্রচুর যাত্রীচাপ লক্ষ্য করা গেছে গতকাল থেকেই। এ সুযোগে বেড়ে গেছে ভাড়াও।
প্রচারণার শেষ দিন পর্যন্ত বড় কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রার্থীরা এখন ঘরোয়া বৈঠকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার কৌশল ঠিক করছেন। ভোটারদের প্রধান চাওয়া একটি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা।এখন সবার চোখ ঘড়ির কাঁটার দিকে। কাল সকালেই নির্ধারিত হবে এই আসনের আগামীর নেতৃত্ব।
-মাহমুদুল হাসান, শ্রীপুর,গাজীপুর।








