জামায়াতের নারীদের ‘গণ্ডা গণ্ডা বাচ্চা পয়দার মেশিন’ বলে অভিহিত করেছেন ঢাবি অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন
মঙ্গলবার(১০ ফেব্রুয়ারী) ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন লিখেছেন, “এরা পুরুষের ৪ বিয়ে মেনে সতীনের সাথে ঘর করা ভালা পায়, ঘরে রানীর মত থাকতে ভালা পায়, গন্ডা গন্ডা সন্তান পয়দার মেশিন হতে ভালা পায়। জামায়াত করলে মানুষকে কতটা পিছিয়ে রাখে তার জ্বলন্ত উদাহরণ এইটা। একটা দল এইরকম দেশে এইরকম বুদ্ধি প্রতিবদ্ধি জনগোষ্ঠী তৈরী করছে। তাহলে এই দেশ কিভাবে সামনে আগাবে? উন্নত হবে? এইরকম একটি দল যদি ক্ষমতায় চলে আসে সেই দেশের অন্ধকার ভবিষ্যৎ এর কথা কল্পনা করতে পারেন? এরা দেশের মানুষকে বলদ বানায়, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বানায়। দেশ যে আজ অসভ্য তার বড় কারণ এরাই।”
অধ্যাপক মামুনের এই মন্তব্যকে নারীবিদ্বেষী ও অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আকমাল হোসাইন। এ বিষয়ে মতামত চাইলে আকমাল হোসাইন বলেন, যে কোনো সমাজেই নানান ধরনের চিন্তা ও মতাদর্শের মানুষ থাকেন, নারী সমাজও তার ব্যতিক্রম নয়। নারীদের মধ্যেও সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে ভিন্নমত ও আদর্শিক বিভাজন থাকা একটি স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক বাস্তবতা। তিনি বলেন, “কিন্তু আদর্শগত বা চিন্তার ভিন্নতার কারণে কোনো নারীকে ‘বাচ্চা উৎপাদনের মেশিন’ বা ‘বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী’ বলে আখ্যা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ভাষা নারীর মর্যাদা ও মানবিক সত্তার প্রতি সরাসরি অবমাননা।”
আকমাল হোসাইন আরও বলেন, এমন বক্তব্য নারীদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতির পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে এ ধরনের চিন্তাভাবনা সমাজের একটি বৃহৎ অংশকে প্রান্তিক করে দেয় এবং জনপরিসরে সুস্থ ও যুক্তিনির্ভর বিতর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি মনে করেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের ভাষা আরও দায়িত্বশীল ও সংযত হওয়া প্রত্যাশিত ছিল। মতাদর্শিক বিরোধ থাকলেও তা শালীনতা ও মানবিক মর্যাদার সীমার মধ্যে থেকেই প্রকাশ করা উচিত।
-বেলাল হোসেন










