এক বছর পেরিয়ে গেলেও সাবিনাদের দেড় কোটির খোঁজ নেই

বাংলাদেশ যুব হকি দল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেয়। ভারতের চেন্নাই–মাদুরাইয়ে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ প্লেট পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়। দলকে বিশ্বকাপে প্রথম জয় এনে দিতে ডিফেন্ডার আমিরুল ইসলাম ১৭ গোল করেন এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার অর্জন করেন। এই সাফল্যে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বিএইচএফ) ৬০ লাখ টাকা বোনাস ঘোষণা করে।

তবে ডিসেম্বর মাসে ঘোষিত এই অর্থ এখন পর্যন্ত খেলোয়াড়রা অর্ধেকের বেশি পেয়েছেন। আমিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা দুই দফায় এক লাখ করে মোট দুই লাখ টাকা পেয়েছি। আমার বিশেষ কৃতিত্বের জন্য আলাদাভাবে দুই লাখ টাকা অতিরিক্ত পেয়েছি।”

টিমের ১৮ জন খেলোয়াড় দুই দফায় এক লাখ করে মোট ৩৬ লাখ টাকা পেয়েছেন। তবে কোচিং স্টাফদের বোনাস এখনো দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান বলেন, “পরবর্তী ধাপে খেলোয়াড়দের বাকি অর্থ এবং কোচিং স্টাফদের বোনাস দেওয়া হবে। আমরা দ্রুত প্রতিশ্রুতি পূরণের চেষ্টা করছি। হেড কোচ আইকম্যান বর্তমানে নিজ দেশে গেছেন; তার বোনাসও পরবর্তীতে দেওয়া হবে।”

ফেডারেশনের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও এত সংকটের মধ্যে খেলোয়াড়দের অর্ধেকের বেশি অর্থ প্রদান করা হয়েছে—এটা ভালো দিক। কিন্তু দেশের অন্য কিছু ফেডারেশনে পুরস্কার বিতরণ অনিয়মের অভিযোগ উঠছে।

ফুটবল ফেডারেশনে অনেক স্পন্সর ও কর্মকর্তাদের অর্থশালী হওয়া সত্ত্বেও সাবিনা খাতুনদের ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার বোনাস এখনো দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর ৯ নভেম্বর বাফুফে কমিটি ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বোনাস ঘোষণা করে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও এই অর্থ খেলোয়াড়দের হাতে পৌঁছায়নি।

এছাড়া ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস দল মিশ্র বিভাগে রৌপ্য পদক জেতায় টেবিল টেনিস ফেডারেশন দুই খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদ ও খৈ খৈ মারমাকে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করে। কিন্তু দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ওই অর্থ দেওয়া হয়নি। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আহমেদ বলেন, “আমরা একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের অর্থ প্রদান করতে চেয়েছিলাম। অনুষ্ঠান বিলম্বিত হওয়ায় এখন নির্বাচনের আগে পুরস্কার দেওয়া হবে এবং পরে সুবিধাজনক সময়ে অনুষ্ঠান করা হবে।”

-এমইউএম