সৌদি ছাড়ার আহ্বান, রোনালদোকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা

আল-নাসরের হয়ে টানা দুই ম্যাচে মাঠে না নামায় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ থেকেই পর্তুগিজ তারকা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

রোনালদোর অভিযোগ, দলবদলের বাজারে পিআইএফ আল-নাসরের তুলনায় প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব আল-হিলালসহ অন্য দলগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণেই আল-রিয়াদের বিপক্ষে ডার্বি ম্যাচের আগে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন তিনি। ম্যাচ শেষে অনুশীলনে ফিরলেও লিগ শীর্ষে থাকা আল-ইত্তিহাদের বিপক্ষে তাঁকে দলে রাখা হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, আসন্ন গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই তিনি আল-নাসর ছাড়তে পারেন। এমনকি তাঁর জায়গায় লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহকে সৌদি প্রো লিগে আনার কথাও শোনা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদোর অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে কড়া সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, নিজের বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতা বোঝা উচিত তাঁর। সমালোচকদের মতে, সৌদি প্রো লিগে না খেললে রোনালদোর পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এতটা প্রভাব তৈরি করা সম্ভব হতো না।

সৌদি ক্রীড়া বিশ্লেষক আল-ফারাজ আরও কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, সৌদি প্রতিনিধিদলের অংশ না হলে রোনালদোর পক্ষে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগও মিলত না। তিনি দাবি করেন, সৌদি আরবের সমর্থন ছাড়া বর্তমান সুবিধাগুলো কল্পনাও করা যেত না।

জানা গেছে, আল-নাসরে খেলার সুবাদে রোনালদো প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ পাউন্ড পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর সৌদি প্রো লিগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অতীতে যত বড় অর্জনই থাকুক না কেন, কোনো খেলোয়াড়ই খেলাটির চেয়ে বড় নন। পাশাপাশি ক্লাবগুলোর দল গঠন ও খেলোয়াড় নেওয়ার বিষয়ে পূর্ণ স্বাধীনতার কথাও জানানো হয়েছে।

রোনালদোর চুক্তিতে থাকা রিলিজ ক্লজ আসন্ন গ্রীষ্মেই কার্যকর হতে পারে। ফলে ইউরোপে ফেরা কিংবা এমএলএসের ইন্টার মায়ামিতে লিওনেল মেসির সঙ্গে একই দলে খেলার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

-এমইউএম