টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করার পর আইসিসির সিদ্ধান্তে প্রতিযোগিতার বাইরে চলে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য আগেই আইসিসির কাছে আবেদন করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সে সময় প্রকাশ্যে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন জানায় পাকিস্তান।
বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এর ফলেই আইসিসির সঙ্গে পিসিবির সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।
তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় সেই জট কাটার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটেই সমাধানের পথ খুঁজতে আইসিসির কাছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছে পিসিবি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা কাটাতে তিনটি বড় দাবি উত্থাপন করেছে পিসিবি। এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আইসিসির সতর্কবার্তার মুখে রবিবার লাহোরে আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে পিসিবি।
বৈঠকে পিসিবির পক্ষ থেকে উত্থাপিত তিনটি দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও রয়েছে।
পিসিবির দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্বমঞ্চে ক্রমাগত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সে কারণে আইসিসি থেকে দেশটির আর্থিক বরাদ্দ বা ক্ষতিপূরণ বাড়ানো উচিত। উন্নত অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের উন্নয়ন এবং জাতীয় দলের প্রতিযোগিতামূলক মান বাড়াতে অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন এমন যুক্তি তুলে ধরা হয় বৈঠকে।
এ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে একটি নির্দিষ্ট অংশগ্রহণ ফি দেওয়ার পক্ষে মত দেয় পিসিবি। তাদের যুক্তি, যে কোনো দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে প্রস্তুতি নেয়। তাই ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।
তৃতীয় দাবিতে বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পিসিবির মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু, অবকাঠামো এবং বিপুল দর্শকসমর্থন গড়ে তুলেছে।
একটি বড় আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট অর্থনীতি যেমন চাঙা হবে, তেমনি বৈশ্বিক পরিসরেও দেশের উপস্থিতি আরও দৃঢ় হবে।
এদিকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে পিসিবিকে সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছে আইসিসি। চলমান আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা কাটাতে উভয় পক্ষই জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
-এমইউএম










