আয়কর বিবরণী না দেওয়ায় ৭০৭ প্রার্থীর মনোনয়ন অসম্পূর্ণ দাবি সুজনের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ১ হাজার ৩১৯ জন প্রার্থীর আয়কর প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি যেসব প্রার্থী শুধু প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছেন কিন্তু আয়কর বিবরণী দাখিল করেননি, তাদের মনোনয়নকে অসম্পূর্ণ বলে দাবি করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আয়কর ও টিআইএন সংক্রান্ত তথ্য

সুজন জানায়, মোট প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৩১৯ জন আয়কর দিয়েছেন, যা মোট প্রার্থীর ৬৫ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে ১৩২ জন প্রার্থী কেবল টিআইএন সনদ জমা দিয়েছেন, কিন্তু আয়কর বিবরণী দাখিল করেননি। এছাড়া ৭০৭ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে আয়কর সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীর হার বেড়েছে। আগের নির্বাচনে এ হার ছিল ৪৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।

ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর সংখ্যা

সংবাদ সম্মেলনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীদের তথ্য তুলে ধরে সুজন জানায়, মোট ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫১৯ জন ঋণগ্রহীতা, যা শতকরা হিসাবে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। তাদের মধ্যে ৭৫ জন প্রার্থী পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন।

ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে বিএনপি। দলটির ১৬৭ জন প্রার্থী ঋণগ্রহীতা, যা মোট ঋণগ্রহীতার ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর হার কিছুটা কমেছে। আগের নির্বাচনে এ হার ছিল ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা এবারে কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৯৩ শতাংশে।

প্রার্থীদের আয়সংক্রান্ত তথ্য

প্রার্থীদের আয়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট প্রার্থীর প্রায় ৪১ শতাংশের বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে। সংখ্যায় যা ৮৩২ জন।
অন্যদিকে, এক কোটি টাকার বেশি বার্ষিক আয় রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৯৫ জন।

সুজন জানায়, ৭৪১ জন প্রার্থীর আয় ৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে। ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১৩২ জন এবং ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকার মধ্যে আয় করেন ৭১ জন প্রার্থী। এছাড়া ১৫৫ জন প্রার্থী হলফনামায় আয়ের তথ্য উল্লেখ করেননি।

আয়কর প্রদানে দলভিত্তিক অবস্থান

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তৃতীয় অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

আয়কর প্রদানকারী ১ হাজার ৩১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৭৯ জন (৩৬ দশমিক ৩২ শতাংশ) ৫ হাজার টাকা বা এর কম আয়কর দিয়েছেন। এক লাখ টাকার বেশি আয়কর দিয়েছেন ৩৫৮ জন প্রার্থী (২৭ দশমিক ১৪ শতাংশ)।
এছাড়া ১০ লাখ টাকার বেশি আয়কর দিয়েছেন ১১৬ জন প্রার্থী, যা মোটের ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।

শীর্ষ আয়ের প্রার্থী

কোটি টাকার বেশি আয় করা প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৫১ জন। এরপর রয়েছেন ২৫ জন স্বতন্ত্র এবং ৫ জন জাতীয় পার্টির প্রার্থী।

শীর্ষ আয়কারীদের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছেন কুমিল্লা–৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
দ্বিতীয় অবস্থানে টাঙ্গাইল–১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলাম, যার বার্ষিক আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
প্রায় ১৯ কোটি টাকা আয় নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন লক্ষ্মীপুর–১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী।

এ তালিকায় আরও রয়েছেন বিএনপির মির্জা আব্বাস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরসহ কয়েকজন প্রার্থী, যাদের বার্ষিক আয় চার থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকার মধ্যে।

-এমইউএম