‘হস্তক্ষেপ নয়, পর্যবেক্ষণেই এসেছি’-ইসি বৈঠক শেষে ইইউ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও আশঙ্কার বিষয়গুলো জানতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রতিনিধি দল।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষে বিষয়টি জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, ইইউ প্রতিনিধিদের মূল আগ্রহ ছিল আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি এবং কমিশন কোনো ধরনের ঝুঁকি বা আশঙ্কা দেখছে কিনা-তা জানা।

ইসি সচিব জানান, কমিশন ইতোমধ্যে ১১৬টি আসনের ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব আসনের ব্যালট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কয়েকটি আসনে আদালতের নির্দেশে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

অপপ্রচার বড় চ্যালেঞ্জ:

নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী? – এ প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন অপতথ্য ও তথ্যের অপপ্রচারকে অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরে। আখতার আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে মেটা (ফেসবুক কর্তৃপক্ষ)-এর সঙ্গে আলোচনা চলছে। ইন্টারনেটের গতি কমানোর মতো পদক্ষেপে না গিয়ে বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষমূলক ও আক্রমণাত্মক কনটেন্ট অপসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা ও মোতায়েন পরিকল্পনা:

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে ইইউ প্রতিনিধিদের অবহিত করে ইসি জানায়, নির্ধারিত ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী সাত দিন সেনাবাহিনী, আট দিন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং পুলিশ ইতোমধ্যে মাঠে রয়েছে। সেনাবাহিনী বিশেষ দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করছে।

এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য। একই সময়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্বও কার্যকর থাকবে। রাজনৈতিক দলের প্রচারণা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বন্ধ হবে।
বিএনসিসি মোতায়েন প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত জবাবে ইসি সচিব বলেন, তারা দায়িত্ব পালন করবে।

পোস্টাল ব্যালট ও বন্দি ভোট:

ইসি সচিব জানান, বিদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে জমা হয়েছে। দেশের ভেতরেও ২৭ হাজার ৩৬৭টি ব্যালট পৌঁছেছে।

কারাগারে থাকা বন্দিদের ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৬ হাজার ৯১ জন বন্দি ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছেন। তাদের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং তা ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক ব্যালট আটকে থাকার বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য তার কাছে নেই বলে জানান সচিব। তবে যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ের কারণে কিছু ব্যালট পাঠাতে বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি অবগত হয়েছেন।

‘উপদেশ দিতে নয়, পর্যবেক্ষণে এসেছি’ বৈঠক শেষে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইজাবস বলেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় শেষ সপ্তাহের প্রেক্ষাপটে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে তারা কোনো পরামর্শ বা সংশোধন দিতে আসেননি। তাদের মূল কাজ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা এবং মিশন শেষে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা।
তিনি বাংলাদেশের জন্য শুভকামনা জানিয়ে বলেন, ইইউ একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করে।

নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণে জোর:

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ইজাবস বলেন, ইইউ চায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হোক, যেখানে নারী, সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকবে।

পর্যবেক্ষণ প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৬০ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করছেন। শিগগিরই স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরাও বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সরাসরি ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

-এজাজ আহম্মেদ