‘ভোট চুরির চেষ্টা করলে আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটবে’: সাভারে নাহিদ ইসলাম

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট কারচুপি বা কেন্দ্র দখলের কোনো চেষ্টা করা হলে তার পরিণাম ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের কায়দায় কেউ যদি জনগণের ম্যান্ডেট ছিনিয়ে নিতে চায়, তবে বাংলাদেশে আরেকটি ‘৫ আগস্ট’ স্টাইল বিপ্লব ঘটে যাবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাভারের চাপাইন রোড এলাকায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুলের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “শহীদ হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারা এই সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে। গতকাল যমুনার সামনে হাদির পরিবারের অবস্থান আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা এখনো বিচার পায়নি। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে এই পরিবারকে সম্মান ফিরিয়ে দিতে হবে।”

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, একটি বড় দল অনেকগুলো দলকে নিজেদের পেটে ঢুকিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র নষ্ট করছে। তিনি বলেন, “আমরা দেখছি ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে, আমাদের এক ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। যারা লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়, সাভার-আশুলিয়ার মানুষ তাদের রুখে দেবে।”

বিদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা এক রাজনৈতিক নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যিনি ১৬-১৭ বছর দেশের বাইরে ছিলেন, তিনি দেশের কোথায় কী উৎপাদন হয় তাও জানেন না। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের তথাকথিত ‘রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা’ এ দেশের মানুষ দেখেছে। সেই অভিজ্ঞতার গল্প বলে লাভ নেই। ৫ আগস্টের পর থেকে আপনারা যা করেছেন, আপনাদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য সেটিই যথেষ্ট।”

সমাবেশে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ১১ দলীয় জোটের পক্ষে সাভার ও আশুলিয়ায় মা-বোন এবং তরুণ সমাজ একটি গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে। কোনো হুমকি বা রক্তচক্ষু দেখিয়ে এই জোয়ার থামানো যাবে না।

উক্ত সমাবেশে ঢাকা-১৯ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনসহ জোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

লামিয়া আক্তার