আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০২৬ সালের গণভোট শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই মহড়ায় ভোটকেন্দ্র দখল এবং প্রিজাইডিং অফিসারকে জিম্মি করার মতো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি মোকাবিলার একটি বাস্তবসম্মত দৃশ্যপট উপস্থাপন করা হয়।
বৃহস্পতিবার কালিগঞ্জ সেনা ক্যাম্পে আয়োজিত মহড়ায় দেখানো হয়, সন্ত্রাসী পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর দক্ষ সদস্যরা কীভাবে দ্রুত ও পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র দখলমুক্ত করেন এবং নিরাপদে জিম্মি প্রিজাইডিং অফিসারকে উদ্ধার করেন। পুরো কার্যক্রমটি ছিল কৌশলগত দক্ষতা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে পরিপূর্ণ।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলায় ইতোমধ্যে চারটি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সেনাসদস্যরা দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার সব ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন ও রেকি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জেলা নির্বাচন অফিস এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মহড়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এবারের নির্বাচনে নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রমে ড্রোন, বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং ‘সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের মহড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করবে এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহ জোগাবে। পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আশ্বাস দিয়েছে, একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।
মোঃ আব্দুস সালাম, সাতক্ষীরা/










