শহরে অচল সিসি ক্যামেরা, বাড়ছে চুরি-ছিনতাই!

সীমান্তঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরা শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। শহরের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন ভোমরা স্থলবন্দরের পণ্যবাহী ট্রাকসহ নানা যান চলাচলের কারণে যানজট এখন নিয়মিত দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। একসময় অপরাধ দমন ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যকর উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত সিসি ক্যামেরাগুলো বর্তমানে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে যানজটের পাশাপাশি চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সাতক্ষীরা শহরের নিরাপত্তা জোরদারে জেলা পুলিশের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এসব ক্যামেরা চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধের পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল। সে সময় শহরে যানজট সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে এবং অপরাধের প্রবণতাও কমে যায়।

কিন্তু স্থাপনের কয়েক বছরের মধ্যেই বর্তমানে অধিকাংশ সিসি ক্যামেরা নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও ক্যামেরা ভাঙা অবস্থায় ঝুলে আছে, আবার কোথাও পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে এসব ক্যামেরা এখন আর কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এর ফলে শহরে যানজট বেড়েছে এবং চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাতক্ষীরা শহরের ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান বলেন, সিসি ক্যামেরা চালু থাকার সময় শহরে অপরাধ ও যানজট অনেকটাই কম ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরাগুলো বন্ধ থাকায় মানুষের মধ্যে আর আগের মতো ভয় কাজ করছে না। এতে সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

কলেজ শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান জানান, কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় দুর্বৃত্তরা তার ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় এ ধরনের অপরাধ ক্রমেই বাড়ছে, চুরি ও ছিনতাই এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

সাতক্ষীরা কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, শহরে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যানজট ও অপরাধ কমাতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি আগে স্থাপিত সিসি ক্যামেরাগুলো পুনরায় চালু করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জানান, সিসি ক্যামেরা সরাসরি যানজট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখে না। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এটি কার্যকর হতে পারে। শহরের বিভিন্ন মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, ক্যামেরাগুলো পড়ে রয়েছে।

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুলিশের স্থাপিত সিসি ক্যামেরাগুলো অচল হয়ে গেছে। শহরে ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত অনেক ভালো মানের সিসি ক্যামেরা রয়েছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের ব্যবহৃত ক্যামেরাগুলো বর্তমানে নষ্ট অবস্থায় আছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে আবারও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সাতক্ষীরা শহরের যানজট ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

মোঃ আব্দুস সালাম, সাতক্ষীরা/