নতুনরূপে কলকাতার বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্র

নতুনভাবে সেজে উঠেছে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্র। ভারত ভ্রমণে আসা অনেক বাংলাদেশি নাগরিকের কাছেই বিষয়টি এখনও তেমন পরিচিত না হলেও, পার্ক সার্কাসের সাতমাথা মোড় সংলগ্ন ৩ নম্বর সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউতে অবস্থিত কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের এই গ্রন্থাগারটি সম্প্রতি আধুনিক রূপ পেয়েছে।

কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই গ্রন্থাগারটির সংস্কার ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া (তারেক চয়ন)। তার তত্ত্বাবধানে গ্রন্থাগারটিতে পাঠকবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি আনা হয়েছে নানামুখী কাঠামোগত ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন।

সংস্কারের অংশ হিসেবে গ্রন্থাগারের ভেতরে শিশু কর্নার, বাংলাদেশ কর্নার, রবীন্দ্র-নজরুল কর্নারসহ একাধিক আলাদা পাঠ কর্নার চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রন্থাগারের বাইরে স্থাপন করা হয়েছে একটি নতুন ডিজিটাল সাইনবোর্ড, যা ভবনটির বাহ্যিক সৌন্দর্যও বাড়িয়েছে।

প্রেস সচিব তারেক চয়ন জানান, দায়িত্ব গ্রহণের আগে গ্রন্থাগারে থাকা বইয়ের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট ধারণা ছিল না। পরে সহকর্মীদের সহায়তায় গ্রন্থাগার, গোডাউনসহ বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত সব বই গণনা করে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার বইয়ের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অবিন্যস্ত অবস্থায় থাকা বইগুলোকে শ্রেণিভিত্তিকভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গ্রন্থাগারের সংগ্রহে রয়েছে বাংলাপিডিয়া, কবিতা ও সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, নাটক, শিশু-কিশোর সাহিত্য, কৃষি ও পরিবেশ, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, আইন, দর্শন, ধর্ম, খেলাধুলা, চলচ্চিত্র, নারী ও ভাষা বিষয়ক বইসহ বাংলা ও ইংরেজি ভাষার বিপুলসংখ্যক গ্রন্থ। আগে এসব বই ক্রমানুসারে সাজানো না থাকায় পাঠকদের কাঙ্ক্ষিত বই খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়তে হতো বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

নতুন সংযোজন হিসেবে গ্রন্থাগারে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে লেখা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও কৌশল, বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি, বেগম খালেদা জিয়া জীবন ও সংগ্রাম, খালেদা: আপসহীন দেশনেত্রীর প্রতিকৃতি, রাজবন্দীর জবানবন্দী (যার প্রথম সংস্করণ আওয়ামী লীগ শাসনামলে বাজেয়াপ্ত করা হয়), প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী এবং জিয়াউর রহমান: দর্শন ও বিপ্লব।

এ প্রসঙ্গে তারেক চয়ন বলেন, আগে গ্রন্থাগারে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের বই বেশি ছিল এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের অনেক বই সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। তিনি মনে করেন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কোনো গ্রন্থাগারে কেবল একটি পরিবার বা দলের বই নয়, বরং দেশের সব রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। সেই লক্ষ্যেই ভারসাম্য বজায় রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বই সংযোজন করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বই সংযোজনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, পাঠকদের চাহিদাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাঠকদের আগ্রহ বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে বই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে বই যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

উল্লেখ্য, গ্রন্থাগারটি ভারতীয় সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনি ও রোববার বাদে সপ্তাহের বাকি পাঁচ দিন—সোমবার থেকে শুক্রবার—সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। পাঠকরা গ্রন্থাগারের ভেতরে বসেই পছন্দের বই পাঠ করতে পারেন। গবেষণা ও অন্যান্য প্রয়োজনে নির্দিষ্ট অংশের ফটোকপি সুবিধাও রয়েছে।

-সাইমুন