দর্শকদের ভালোবাসা ছাড়া সবকিছু শুন্য

রেডিও জকি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে উপস্থাপনা দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন ইভান সাইর। এরপর ছোট পর্দার নিয়মিত কাজ নজর কেড়েছেন সবার। খুব অল্প সময়ে তার অভিনয় পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা। বড় পর্দাতেও অভিনয় করছেন নিয়মিত। সম্প্রতি তিনি আলোকিত স্বদেশের আমন্ত্রনে এসেছিলেন অফিসে। দীর্ঘ আড্ডায় ইভান সাইর সাথে কথা বলে সাক্ষাৎকারটি লিখেছেন বিথী রানী মণ্ডল

সাম্প্রতিক সময়ে কি কাজ করলেন ?
ঝামেলা শিরোনামে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করলাম। ইয়ামিন ইলানের পরিচালনায় এই বছরই ইনশাল্লাহ প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে। এছাড়াও আরো একটি চলচ্চিত্রের কাজ শীঘ্রই শুটিং শুরু হবে।

ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট কি বলে মনে করেন?
টার্নিং পয়েন্ট আসলে সত্যি বলতে রেডিওতে কাজ করা। আরজে হিসেবে কাজ করতে গিয়ে অন্যান্য সুযোগগুলো তৈরি হয়েছে।

নাটক বা সিনেমা বাছাইয়ে কোন বিষয়কে প্রাধান্য দেন?
গল্প, চরিত্র, আয়োজন এবং কাজটির উদ্দেশ্য। সিনেমাতেই কাজ করতে ভালোবাসি।

পরিবার থেকে কোন বাধা আসছে কিনা ?
না একদম না। পরিবার আমার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট। মা বাবা দুজনেই অনেক সাপোর্ট করেন। তবে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় শিল্পীদের অবস্থান সংকটজনক।

দর্শকদের পাগলামি উপভোগ করেন ?
দর্শকদের সবকিছুই ভালোবাসা। তাদের পাগলামি ছাড়া সবকিছু শূন্য। খুবই উপভোগ করি এবং অনুপ্রাণিত হই। মজার ঘটনা কিছু কিছু আছে। তবে কোনটা শেয়ার করবো বুঝতে পারছি না।

আপনি সব মাধ্যমেই কাজ করেন। স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করেন কোন মাধ্যমে?
সিনেমা, ওটিটি উপভোগ করছি।

জীবনে প্রেম এসেছে কতবার ?
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র আপুদের ভালো লাগতো। এইটাকে প্রেম বলবো কিনা জানি না তবে ভালো লাগতো। এখন তাদের সাথে যোগাযোগ হয় মাঝে মাঝে তাদের ছোট ভাই হিসাবে। আর তাদের কে অনেক বেশি সম্মান করি তাদের ছোট ভাই হিসাবে। তবে জীবনে একটাই সিরিয়াস প্রেম করেছি। তার প্রতি এতো তাই লয়াল ছিলাম যে অন্য দিকে যাই নাই। কিন্তু তার বিয়ে হয়ে গেছে যেহেতু আমরা ক্লাসমেট ছিলাম।অসম্ভব একজন ভালো মানুষ ছিলেন তিনি। এখন সংসার করছে। তার প্রতি আমার অনেক সম্মান আর শ্রদ্ধা রয়েছে। এখন আমি প্রেম করতে চাই নাহ। ডিরেক্ট বিয়ে করতে চাই।একজন ভালো মনের মানুষ চাই এই টুকুই। একটা পবিত্র সম্পর্কের মধ্য দিয়ে যেতে চাই।ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে আমি কলিগ হিসাবে প্রেফার করি এবং বিয়ে করতে চাই একটু ডিফারেন্ট প্রফেশনের।

পটু সিনেমা মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল কি ?
পটু সিনেমা করার আগে আমি ভয়েস আর্স্টিট হিসাবে কাজ করেছিলাম। পটু সিনেমার যিনি ডিরেক্টর তিনি আগে থেকে পরিচিত ছিল। তিনি আগে মিউজিক ডিরেক্টর ছিলেন। আহমেদ হুমায়ূন তিনি সিনেমাটা বানানোর কথা ছিলো নতুন মুখ নিয়ে। তখন একটু আমি দ্বিধায় ছিলাম যে ফাইনালি সিলেক্টেড কি না যার জন্য আমার একটা জার্নি গেছে তার জন্য এই সিনেমা নিয়ে আমার আগ্রহ ছিলো বেশি। কারন আমি এই রকম গল্পই করতে চেয়েছিলাম। সেখানো প্রোটাগনিস্ট চরিত্র আর এমন স্কিপ্ট পাবো সেটা সত্যিই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। পটু সিনেমার মধ্য দিয়ে নিজেকে বড় পর্দায় দেখেছি এবং দর্শকদের অনুভূতি দেখে সত্যি অনেক বেশি ভালো লাগেছিলো আমার।

আগামীতে সিনেমার কোন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিবেন ?

অবশ্য গল্পটা গুরুত্বপূর্ণ। এখন আপাতত সিনেমাতেই থাকতে চাই। সিনেমাই করতে চাই। কারন সিনেমার জার্নিটা অন্যরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

ভয়েস আর্টিষ্ট থেকে কখন মনে হয়েছে নায়ক হবেন ?
হিরো হব ভাবি নাই। তবে মজার ব্যাপার হলো সিনেমা করার আগে আমি ২৪টি সিনেমার ডাবিং করেছি বিঙ্গাপন ছাড়াই। দেশ ও বাইরের অনেক হিরোর ডাবিং করেছি। যেমন ভারতের সিনেমাতেও ডাবিং করার সময় মনে হয়েছে ডাবিং যেহেতু হিরোর ভয়েসই করছি তা হলে অভিনয়টা করে দেখি। আর সেই জন্য আমি কলকাতার পাঠশালা কিয়েট্রর থেকে প্রায় ১ বছর অভিনয় শিখেছি। জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা আমার আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। ডাবিং করতে করতে সিনেমার পরিবেশ টা বুঝে ছিলাম সেই অভিজ্ঞতাটা আমার কাজে লেগেছে অভিনয় করার সময়।

দেশের বাহিরে কাজের সুযোগ পেলে কি করবেন?
অবশ্যই। আমি দেশে এবং দেশের বাহিরে কাজ করতে চাই। সেই সুযোগটা যদি আমার পছন্দ হয় অবশ্যই করবো। আমার কোথাও পারফর্ম করতে অসুবিধা নাই। কারন পুরো পৃথিবীটা এখন গ্লোবাল ভিলেজ।

সামনে কতোগুলো মুভিতে দেখতে পাবো?
এখন পর্যন্ত কোনটা কবে রিলিজ দিবে জানি না। তবে আমার দ্বিতীয় সিনেমার কাজ শেষ করলাম যা এই বছর আশা করি দেখতে পাব। আর সুস্থ থাকলে এই বছর একই সাথে দুটো ছবির শুটিং শেষ করব। এই বছরই রিলিজ হবে কি না সেটা জানি না।

অবসর সময় কি করতে ভালো লাগে?
ঘুরতে যেতে ভালো লাগে। আমি এখন পর্যন্ত শ্রীলংকা এবং ভারত গিয়েছি। শ্রীলংকা আমার পছন্দের জায়গা। ওখানে আমার বন্ধু আছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যেতে চাই। তাছাড়া লং ড্রাইভে যেতে ভালো লাগে। সময় পেলে একা একা আমি রাতে ড্রাইভ করি।

বিথী রানী মণ্ডল/