মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে তিনি আশাবাদী। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করে বলেন, দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের হামলা হলে তা আঞ্চলিক সংঘাতের জন্ম দেবে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পর তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ধারাবাহিকতায় তিনি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর নির্দেশ দেন। খবর বিবিসির।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক ভাষণে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা’র সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত—যদি তারা যুদ্ধ শুরু করে, তবে সেটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে। একই সঙ্গে তিনি জনগণকে ট্রাম্পের হুমকিতে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।
খামেনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ, সরকারি স্থাপনা, আইআরজিসি কেন্দ্র, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা চালিয়েছে। তারা পবিত্র কোরআন অবমাননা করেছে। এসব কার্যক্রম একটি অভ্যুত্থানের মতো ছিল, যা শেষ পর্যন্ত দমন করা হয়েছে।
খামেনির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি তো এমন কথা বলবেনই। দেখা যাক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। আমি আশা করছি, আমাদের মধ্যে একটি চুক্তি হবে। আর যদি তা না হয়, তবে তিনি সঠিক না ভুল—তা সময়ই প্রমাণ করবে।’
বিক্ষোভকে ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানির ফল বলে উল্লেখ করছে। সরকারের তথ্যমতে, বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজার ৮৪২ জনের বেশি এবং তাদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।
এত উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প যদি ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিতে পারেন, তাহলে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি ‘ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ’ চুক্তি সম্ভব। তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ ভূমিকা রাখছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিও বলেন, প্রকাশ্য বক্তব্যের আড়ালে আলোচনার কাঠামো গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলছে। ট্রাম্পও আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আলোচনার বাইরে থাকবে।










